২৫শ’ টাকা পাওয়ার জটিলতা নেত্রী কে জানাবেন এমপি বাদশাহ্।

নিউজ ডেস্ক: দুই ভাই এক বোন,বড় ভাই বর্গা চাষী,বাবা ভ্যান চালক,বোন শশুর বাড়ী। ২৫ বছর বয়সী মোঃজালাল উদ্দিন স্থানীয় একটি কলেজে বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পরিবারের সবার চোখ জালালের ভবিষ্যতের দিকে। ভ্যান চালক বাবাই চালাচ্ছেন জালালের পড়া লেখার খরচ। টেলিভিশনের খবরে শোনা গেলো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অসহায় দুস্থরা পাবেন নগদ আড়াই হাজার টাকা। শিক্ষিত যুবক জালাল স্থানীয় মেম্বর,উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমা দেন ভ্যান চালক বাবার নাগরিক পরিচয় পত্র। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ২৫০০ টাকা পেলে জালাল এগিয়ে নিতে পারবে পড়ালেখার কিছুটা। এমনিতেও অঘোষিত লকডাউনে বাবার আয় শূণ্য বললেই চলে।

আবেদিতদের অনেকেই টাকা পেয়েছেন শুনে জালাল খোঁজ নিতে গেলেন নিজের প্রাপ্যের। কপালে মিলেনি! পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল ফোন নম্বর সবই ঠিক সরবারাহ করলেও টাকা আসেনি জালালের পিতার মোবাইল ফোনে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বললে জালাল কে জানানো হয়– ‘এ সমস্যার কোন সমাধান নেই। টাকা ভুল নম্বরে চলে গেছে।’ যদিও জালালের পিতার মোবাইল নম্বরে ফোন করে নম্বর যাচাই করেছিলেন প্রশাসনিক ব্যাক্তিরা। হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ এ ফোন করেও জালাল জানিয়েছেন বিস্তারিত।

একথাই শোনালেন শিক্ষিত বেকার যুবক জালাল উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকার আশায় শুধু জালাল না; জালালের মতো অনেকেই বুক বেঁধেছিলেন ছোটো-ছোটো স্বপ্ন পুরনে। ৬০ বছর বয়সী নি:স্ব মালা বিবিও (প্রতীকী) সব তথ্য ঠিক দিয়েছেন,কেবল ফোন নম্বর টা প্রতিবেশির। সেও পাইনি টাকা। কোনটা ভুলে আবার কোনটা ভুল ছাড়াই এ টাকা না পাওয়ার সংখ্যাই এখন বেশি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৫শ’ টাকা পাওয়ার অধিকারীদের তালিকার ৪ ভাগের তিন ভাগই পাইনি টাকা। এবিষয়ে উপর মহলে আপডেট জানানোও হয়েছে ইতোমধ্যে।

কিন্তু, সমাধান হবে কি-না! হলেও তা কিভাবে! সেখানেই যখন অনিশ্চয়তা। তখন আশার কথা জানালেন এমপি বাদশাহ। সোমবার সকালে ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান ক্রয় প্রক্রিয়ার লটারি অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এ নিয়ে কথা তোলেন দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিবুল ইসলাম মহি। উত্তরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন– আসন্ন বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকায় যাবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলার সুযোগ হবে ইনশাআল্লাহ। সেখানে আমি আবেদনকারীদের অধিকাংশেরই টাকা না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনা করবো।

গেল ১৪ মে ২০২০ তারিখে, চলতি করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ অসহায় পরিবারের জন্য নগদ ১২৫০ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নানা জটিলতায় সকল জেলায় ব্যাপক আকারে টাকা না পাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মহৎ উদ্যোগ গুলো সরকার ব্যার্থ হতে দিবেনা; মহামারী কালে রাষ্ট্রজুড়ে করা কার্যক্রমটি নিয়ে বিভ্রান্ত বা বিক্ষুব্ধ না হয়ে ধৈর্য্যের সাথে পারস্পারিক সহানুভূতিশীল আচরণের পক্ষে মত দিচ্ছেন সচেতন সমাজ। সোমবার সকালের অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।