হাসিনুর হত্যাকাণ্ডে খুনির নাটকীয়তা পরিকল্পিত !

ফটো: চিহ্নিত ব্যাক্তি নিহত সমাজকর্মী হাসিনুর

দৌলতপুর প্রতিনিধি: হঠাৎ লোকটা সাত-সকালে উলঙ্গ হয়ে উদয় হলো,তীব্র ধারালো একটা হাসুয়া দিয়ে ২০-২৫ জন মানুষের সামনে নিরস্ত্র আরেকজন কে কুপিয়ে খুন করে বললো–ছেলে হত্যার বদলা নিলাম। তারপর আবার বাড়ি গিয়ে জামা কাপড় পরে পালালো,পুলিশ তাকে আটক করলো। খুন থেকে আটক পর্যন্ত কয়েকঘন্টার মধ্যে গল্পটা এরকমই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

নানা রকম গুজব ছড়াতে যেন আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো অনেকে। গেল শনিবার ২৯ আগস্ট সকালে নিজ গ্রামে খুন হোন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সমাজকর্মী এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি,স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহর ফুফাতো ভাই হাসিনুর রহমান। ঘাতক মজিবরের ছেলে হত্যা আরও বছর খানেক আগের ঘটনা। সে ঘটনায় একটি হত্যা মামলা চলমান।

আসামিরা জামিনে। এদিকে ওই খুনের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িতদের বাদ রেখে সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ভাবে বেশি প্রভাবশালী প্রতিবেশী হাসিনুর কে খুন করে ছেলে হত্যার বদলা নেয়ার সংলাপ অবাক করেছে দৌলতপুরের মানুষকে। এধরনের গুজব খুবই দ্রুত ছড়ানো আরেকটি অপচেষ্টা,খুনের মূল মোটিভ আড়াল করতেই এমন নাটক বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে হাসিনুর রহমান হত্যায় মজিবর ব্যবহৃত খুনি মাত্র,এর পেছনে বড় ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে দাবি এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিদের। প্রতিবেশী মজিবর কর্তৃক প্রতিবেশী হাসিনুর কে নৃশংস হত্যা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তারা বলছেন– কুপিয়ে হত্যা করার মতো কোন ঘটনা হাসিনুর-মজিবরের মধ্যে ঘটেনি। হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হলে নেপথ্যের নাটকীয়তা বেরিয়ে আসবে, মুখোশ উন্মোচিত হতে পারে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীরও,এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিহত হাসিনুরের স্বজনদেরও দাবি,খুনি মজিবর কে দিয়ে কে বা কারা নির্মম এই কাজটি করিয়েছে বৃহত্তর স্বার্থ হাসিলের জন্য। অন্যদিকে, দিনের আলোতে নৃশংস ভাবে হত্যাকারী আটক মজিবরকে আইনী সহায়তা দেয়া, কারাগারে সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল এবং অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়ার জন্য কিছু অতি আগ্রহী ব্যাক্তির সন্ধান মিলেছে বলেও ইঙ্গিত করছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী ও কারাগার সংশ্লিষ্ট সুত্র। অচিরেই বের হতে যাচ্ছে খুনের পেছনের গল্প এরকমও ভাবছেন বিষয়টিতে মনোযোগী অনেকেই।