সৈয়দপুরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে, আ’লীগের সংবাদ সম্মেলন

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: সৈয়দপুর উপজেলা যুব লীগের আশ্রয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দিলনেওয়াজ খান ও তার আশ্রয় দাতা দলীয় নেতাদের বহিস্কারের দাবিতে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। গতকাল সোমবার দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে যুদ্ধাপরাধির সন্তান হিসেবে দিলনেওয়াজ খানকে চিহ্নিত করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ সন্তান মহসিনুল হক মহসিন। লিখিত বক্তব্য বলা হয়, অবাঙ্গালী দিলনেওয়াজ খান সৈয়দপুর উপজেলা যুব লীগের আশ্রয় নিয়ে সৈয়দপুর
শহরে বাঙালি অবাঙ্গালী বিভাজন তৈরী করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের
অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী দিলনেওয়াজ খান ৭১ সালে
পার্বতীপুরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নঈম খান ওরফে নঈম গুন্ডার সন্তান।

তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের সময় পার্বতীপুরে গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণসহ বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞের হোতা ছিলেন। যা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গবেষনায় উঠে এসেছে। দিলনেওয়াজ খান স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আশ্রয়-প্রশয়ে যুব লীগের পদ পদবী ধারণ করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। শহরের এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখলের ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়। কিন্তু কালো টাকার জোরে ফের দলে ফিরে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে মহসিনুল হক মহসিন বলেন, জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দলকে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার মুক্ত করার তাগিদ থেকে সৈয়দপুর উপজেলা যুব লীগের ওই নেতাকে যুদ্ধাপরাধীর সন্তান চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ এই সত্যকে পাশ
কাটিয়ে দিলনেওয়াজ খান আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তার পিতা যুদ্ধাপরাধী নয় বলে দাবি করেছে। যা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করেছে।

তিনি যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দিলনেওয়াজ খানকে বহিস্কারসহ ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা প্রশ্রয় দেয়া নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খোকন, প্রকৌশলী এ.কে.এম রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার মো. কবির উদ্দিন ইউনুছ, মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী, আব্দুল মান্নান, মীর্জা সালাউদ্দিন বেগ প্রমুখ।