সৈয়দপুরে মাদকাসক্ত ড্যান্ডির নেশায় চুর অনেকেই

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: সকাল সাড়ে ১০ টা। স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জি ই আর (জেনারাল ইলেকট্রিকাল এন্ড রিপিয়ারিং ) সপের পিছনে। নোংরা জীর্ণ কাপড় পরা ১২-১৬ বছরের কয়েকজন লিকলিকে রোগামত ছেলে ফুলানো পলিথিনে নাক ঢুকিয়ে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। জানতে চাইলে এক পথচারী ঘৃণা কন্ঠে জানালেন ওরা ড্যান্ডি খাচ্ছে। এটি খাওয়ার পর একজন আরেকজনের উপর হেলেদুলে পড়ছে।

তারপরও একজনের হাত থেকে আরেকজন নিয়ে পলিথিনে নাক ডুবিয়ে শ্বাস নিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যেই সেবন করছে এই মাদক। তাদের মধ্যে কোন ভয় নেই এ বিষয়ে। এ ভাবেই নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় নেশা হিসেবে ড্যান্ডির অপব্যবহার শুরু হয়েছে। উঠতি বয়সী শিশু কিশোর বিশেষ করে যেসকল পথশিশু রেলওয়ে স্টেসন ঘুমায় এবং যারা হাট- বাজার কিংবা হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তাদের মধ্যে এই নেশা দ্রæত ছড়িয়ে পড়ছে।

নেশা হিসেবে সেবন করবে জেনেও কিছু দোকান মালিক কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে ওই মাদকদ্রব্য। এদিকে ড্যান্ডি সেবন সরাসরি মাদক আইনে না পড়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও ঝামেলায় পড়ছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ড্যান্ডি আঠা মূলত টিউওবয়েলের মিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও মুচি তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে।

ড্যান্ডির স্থানীয় আরেক নাম গান্ডু। এ আঠা হার্ডওয়ার দোকানে বিক্রির নিয়ম থাকলেও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মুদিসহ বিভিন্ন দোকানে বেচা-বিক্রি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢেলাপীর হাটের দুটি মুদিখানা এবং এক ইলেকট্রনিক্স দোকানে প্রতিদিনই সকাল থেকে ছোট ছোট ছেলেদের ভির করে ওই আঠা কিনতে দেখা যায়। সেখানর আবাসনে বসবাসকারী অনেক উঠতি বয়সী শিশু-কিশোর ওই আঠার নেশায় আসক্ত। এছাড়াও
শহরের সৈয়দপুর প্লাজা সংগলœ, ইসলাম বাগ শেরু হোটেল, আমিন মোড়, হাতিখানা, রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন, নয়াটলাসহ বিভিন্ন এলাকার ইলেকট্রোনিক্স, মুদিদোকান ও ফার্মেসীতেও মিলছে ওই আঠা।

উপজেলার হাট-বাজার, দোকানপাট এবং হোটেলে কাজ শেষে শিশু-কিশোর শ্রমিকরা একাই অথবা কয়েকজন মিলে একত্র হয়ে নির্জনে ওই নেশা সেবন করে থাকে। জানা যায়, ড্যান্ডি আঠা পলিথিনে তিন ভাগের একভাগ লাগিয়ে পলিথিনের মুখ বন্ধ করে মুখ দিয়ে বাতাস টানে আবার ছাড়ে। কিছুক্ষনের মধ্যে এই আঠার স্পিরিট কেমিকেল মস্তিস্কে আঘাত করে।

আর এতে শরীরে ঝিম ঝিম অনুভুতি সৃষ্টি করে। আর এভাবেই আঠা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে তারা। সৈয়দপুর স্বাস্থ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা, আরমান হোসেন রনি বলেন, এই কেমিকেল আঠার নেশা লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এবং রক্ত কণিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। পূর্ণবয়স্ক না হওয়ায় শতকরা ৭৫ ভাগ ক্যান্সারের সম্ভাবনা থেকে যায়। স্থানীয় হার্ডওয়ার দোকান মালিকরা জানান, তারা কাঠ মিস্ত্রি, টিউবয়েলের মিস্ত্রি এবং জুতার কারিগর ছাড়া এই আঠা অন্য কারো কাছে বিক্রি করেন না।