সৈয়দপুরে মাইক্রোচালককে আটকে চাঁদা দাবিতে মামলা ইউপি চেয়ারম্যান লাপাত্তা \ দুই গ্রামপুলিশ আটক।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: তুচ্ছ দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান রেজাউল করিম লোকমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একজন মাইক্রোবাস চালক। গতকাল শনিবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন গ্রামপুলিশকে আটক করেছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান গাঢাকা দিয়েছেন।

এজহার সুত্রে জানা গেছে, গাজীপুর কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মাইক্রোবাস চালক রেজাউল ইসলাম দিনাজপুর যাওয়ার পথিমধ্যে গত ৭ মে সকাল ৭ টায় কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একজন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেন। স্থানীয়রা এসে তার মাইক্রোবাসটি আটকে রাখে। স্থানীয়দের সাথে তিনিও আহত সাইকেল আরোহীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে মনছুর আলী ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল থেকে ওই চালককে জোরপূর্বক কামারপকুরে নিয়ে আসে।

পরে শালিসের জন্য উনিয়ন পরিষদে আনা হলে ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান ওই চালকের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। চালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তিনদিন বন্দি থাকার পর কৌশলে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি পরিবারকে জানায় ওই চালক। পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানালে গত শনিবার সৈয়দপুর থানা পুলিশ কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালায়।

ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান গাঢাকা দেয়ায় জাহাঙ্গীর আলম ও জহির রায়হান নামের দুই গ্রাম পুলিশকে আটক করা হয়। ওই মামলার এজহারভুক্ত আসামীরা হলেন, কামারপকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান, একই ইউনিয়নের আলোকদিহিপাড়ার নূরে আলম সিদ্দিক ওরফে ভরসা, ইউপি সদস্য আনছারুল, ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম রাজু, কলাবাগানের মনছুর আলী, রিফিউজিপাড়ার ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ, ছাইফুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম এবং জহির রায়হান।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, এভাবে কাউকে আটক রাখা অবৈধ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আসামীদের ধরতে জোর চেষ্টা চলছে।

সৈয়দপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাইক্রোসহ চালক উদ্ধার, গ্রাম পুলিশ আটক।