সৈয়দপুরে দিন দিন লম্বা হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের সারি

প্রতীক ছবি।

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: সরকারী ভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্ধকৃত ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে যেন শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধী তালিকায় নাম লেখানোর প্রতিযোগিতা। চিকিৎসকের কাছে সনদ নিতে হাসপতালের প্রতিবন্ধীদের সারি দিন দিন লম্বা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক প্রতিবন্ধী তালিকায় নিজের নাম লেখানোর জন্য আবেদন করছেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২ হাজার ৭৭৭ জন প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগ করছেন। এদের মধ্যে খাতামধুপুর ইউনিয়নে ২৯০, কাশিরাম বেলপুকুরে ৩৩৯, বোতলাগাড়ীতে ৪১৩, কামারপুকুরে ২৯৮, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে ২৪৬ এবং পৌরসভায় ১ হাজার ১৪১ জন। এছাড়া চলতি বছর অতিরিক্ত বাজেটে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে আরও ১০ এবং পৌর এলাকায় ৪০ জনকে প্রতিবন্ধী সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

২০০১ সালে প্রণীত আইনে ২০০৫-০৬ অর্থ বছর পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ২০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। বর্তমানে ২০২০-২০২১ সাল থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৫০ টাকা। এদিকে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বয়ঃবৃদ্ধ থেকে শুরু করে যাদের অকারণে কোন এক বয়সে অনাকাংখিত ভাবে হাত পা ভেংগেছিল, কিন্তু এখন চলাফেরায় কোন অসুবিধা নেই, বা বয়সের ভারে ঠিকমতো চলাফেরা বা চোখে কম দেখছেন, কানে শুনতে পাচ্ছেন না বা কম শোনেন এমন অনেকে চিকিৎসকের কাছে প্রতিবন্ধী হিসেবে সনদ নিতে ভীড় করছেন।

কারণ একটাই- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী ভাবে দুস্থ্য অসহায় প্রতিবন্ধীদের জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য ভাতা বাড়িয়েছেন। বিনাশ্রমে বিনা শর্তে প্রদেয় সরকারী প্রতিবন্ধী ভাতা পেলে অসুবিধা কার? কে বা এ সুযোগকে হাত ছাড়া করতে চায়? এ টাকাতো সরকারের এতে অন্যকারো অসুবিধা হবার কথা নয়। এ কারণে এ উপজেলায় সঠিক প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধীর খাতায় নাম লিখছেন অনেকে। এতে অনাকাংখিত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা অতিশয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের এই আর্থিক সুবিধা নিতে অনেকে নানা কৌশল ও অজুহাত দেখিয়ে আবার কোন কোন সময় প্রভাবশালীদের তদবীরে বা কোন জনপ্রতিনিধির সুপারিশকৃত ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী সনদ দিতে বাধ্য করছেন চিকিৎসকদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আলেমুল বাশারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক রেজা মাহমুদকে বলেন, প্রতিবন্ধী সনদের জন্য ভীড় বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী। ৫০ থেকে ৬০ বছর আগেই যাদের অনাকাক্সিক্ষতভাবে হাত কিংবা পায়ের আঙ্গুল কেটে গেছে অথবা বয়সের ভাড়ে কানে কম শুনছেন কিংবা চোখ দিয়ে ঠিকভাবে দেখছেন না এমন লোকজনও প্রতিবন্ধী সনদের জন্য ভীড় করছেন।