সৈয়দপুরে অসহায় বৃদ্ধের ধান কাটা-মাড়াই করে দিলেন নারীসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী

রেজা মাহমুদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় এক অসহায় বৃদ্ধ কৃষকের জমির পাকা ধান কেটে মাড়াই করে দিলেন নারীসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। আর এ স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ সাড়া জাগিয়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে। তাদের এ সেবামূলক কাজে দলমত নির্বিশেষে সকলেই প্রশংসা করেছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দিক নির্দেশনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলী সরকারের নেতৃত্বে গতকাল দেড় শতাধিক নেতাকর্মী বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের হবিবর রহমান (৬৫) নামের এক কৃষকের জমির পাকা ধান কেটে মাড়ায় করে ঘরে তুলে দেন।

জানা যায় ওই ইউনিয়নের লক্ষনপুর দেওয়ানী পাড়ার ওই বৃদ্ধ কৃষক তার তিন বিঘা জমিতে ধার- দেনা করে বোরো ধানের আবাদ করেন। কিন্তু বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাবে শ্রমিক ও আর্থিক সংকটে পড়ে জমিতে ধান পাকার পরও কাটতে পারছিলেন না তিনি। প্রাকৃতিক দূর্যোগে এবং ঝরে পরে জমির ধান জমিতেই নস্ট হওয়ার উপক্রমে যখন বৃদ্ধ যখন দিশেহারা হয়ে পড়েন ঠিক তখন আরব্য উপন্যাসের আলাদিনের জ্বীনের মত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক ঝাক নেতা-কর্মী জমিতে নেমে ধান কাটা শুরু করেন।

তারা সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ধান কেটে মাড়াই করে ওই কৃষকের ঘরে তুলে দেন। এ ব্যাপারে কৃষক হবিবর রহমান বলেন, ঋণ নিয়ে বহু কস্টে আমার ওই জমিতে ধান লাগিয়েছি। বাম্পার ফলনও হয়েছে। কিন্তু সময়মত জমি থেকে ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা এসে আমার যেভাবে উপকার করল আমি তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব। তারা এভাবে ধান কেটে না দিলে না খেয়ে থাকতে হতো, ঋণের টাকাও শোধ করা হতো না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলি সরকার বলেন, ওই অসহায় কৃষক করোনা পরিস্থিতিতে তার জমির পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না জানতে পেরে সংগঠনের পক্ষ হতে আমরা তাকে সহযোগিতা করি। তিনি আরও বলেন, উপজেলায় যদি কোন কৃষকের ধান কাটাতে সমস্যা হয় তাদের খবর দেওয়ামাত্র ওই জমির ধান কেটে দেওয়া হবে। জমির ধান কাটা কাজে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম রয়েল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোখসানা আক্তার সহ ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।