সালথায় পুলিশের উপর হামলার মামলায় ৭ জন গ্রেফতার।

বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মরাটিয়া গ্রাম এলাকায় পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের মামলায় ৭জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন আসমত শেখ (২৮), পিতা-রজা ওরফে রাজ্জাক শেখ, সবুর মাতুব্বর (২৬), পিতা-মৃত উতারদ্দিন মাতুব্বর, ইমরান শেখ (২৫), পিতা-আফছার শেখ, টিটুল মাতুব্বর (৩৫), পিতা-সলেমান মাতুব্বর, মিলন মাতুব্বর (৪০), পিতা-পরশউল্লাহ মাতুব্বর, গেদা ওরফে সিদ্দিক মাতুব্বর (৫৫), পিতা-মৃত বারিক মাতুব্বর, সর্ব সাং-বাতাগ্রাম, আবুল কালাম মেম্বার (৫০), পিতা-মৃত জব্দুল মাতুব্বর, সাং-কাগদী স্বজনকন্দা, সর্ব থানা-সালথা, জেলা-ফরিদপুর। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সালথা থানা পুলিশ জানায়, গত ৫ এপ্রিল বিকালে উপজেলার কাগদী বাজারে জনৈক আবুল খায়েরের মুরগীর দোকানে ক্রয়কৃত মুরগী জবাই করা নিয়ে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তৎক্ষণিক সমাধান হয়। এরই জেরধরে পরের দিন সকালে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের নের্তৃত্বে গ্রেফতারকৃত আসামীগন সহ তিন-চার শত লোক সমবেত হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও লুটপাটের চেষ্টা করে।

তৎক্ষণিক ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা সারের নেতৃত্বে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সহ অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স কাগদী বাজারে ছুটে যান। পুলিশের উপস্থিত টেরপেয়ে লোকজন সরে যায়। সকাল ১১ টার দিকে পুলিশ মুরাটিয়া তিন রাস্তার মোড়ে উপস্থিত হইলে গ্রেফতারকৃত আসামীগন সহ ৪ শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র ঢাল-কাতরা, শরকি-ভেলা, রামদা, ইটের টুকরা ইত্যাদি সহ সমবেত হইয়া উচ্ছৃঙ্খল করার চেষ্টা করে।

এসময় উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ হ্যান্ড মাইকযোগে অনুরোধ করে। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল জনতা আসামী আফছার মাতুব্বর ও তাহার ছেলে নাজমুল এর নেতৃত্বে পুলিশের কথায় কর্নপাত না করে পুলিশের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং পুলিশকে লক্ষ করিয়া ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। রাস্তায় গাছের গুড়ি, বাশ, ইট ফেলিয়া, রাস্তার ইট উঠাইয়া ও কলাগাছ কেটে পুলিশের সরকারি গাড়ি চলাচলে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করে।

তখন উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তারা চর্তুরদিক হতে পুলিশ এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল জনতার নিক্ষিপ্ত ইট পাটকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারের ব্যবহৃত গাড়ি ও থানার জরুরী ডিউটির জন্য ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করে।

এসময় বিক্ষিপ্তভাবে ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে পুলিশ দলের সদস্য এসআই কোবায়েদ হোসেন, এএসআই ইমেজুল হক, এএসআই শহিদুল হক, এএসআই মিলন হোসেন, এএসআই বিকাশ কুমার বিশ্বাস, কনস্টাবল মিজানুর রহমান আহত হয়। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এঘটনায় সালথা থানার এসআই মোঃ জাফর আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-০৫, তাং ৬/৪/২০২০ ইং।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বুধবার ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামা দমনকালে সরকারী কর্মচারীদের আক্রমন ও কর্তব্যকাজে বাধা দান পূর্বক সাধারন জখম, সরকারী গাড়ি ভাংচুর, সরকারী রাস্তায় গাছের গুড়ি, বাশ, ইট ফেলিয়া, রাস্তার ইট উঠাইয়া ও কলাগাছ কাটিয়া পুলিশের সরকারি গাড়ি চলাচলে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করা সহ অন্যান্য ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে।