সালথায় চলতি মৌসুমে পাট কাটা ও পঁচনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক’রা ।

বিধান মন্ডল ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাট কাটা ও পঁচনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল। কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে ফরিদপুরের ব্যাপক সুনামও রয়েছে পাট উৎপাদনে। পরিবেশবান্দব বিবেচিনায় দেশ-বিদেশে রয়েছে পাটের ব্যাপক চাহিদা।

বিগত কয়েক বছরে পাটের দাম না পাওয়ায় এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলো। কিন্তু বর্তমানে পাটের বাজার ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা পাট চাষের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় পাট কাটা থেকে শুরু করে জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা  তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজার মূল্যের অসমতার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

গত দুই বছর ফলন ও দাম কাঙ্খিত হওয়ায় এবারো সোনালি আঁশ নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন পাটচাষিরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, এ বছর লক্ষমাত্রা অনু্যায়ী ১২ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। পাটপণ্যের দ্বিগুণ রপ্তানি বৃদ্ধি, পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক ব্যবহারে বহুমাত্রিকতায় এবার পাটের আবাদ বেশি হয়েছে।

উপজেলায় রবি জাত তোষা ১৯৯৭ পাট আবাদ হয়েছে বেশি। কয়েকটি গ্রামের পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাঢ়ে বৃষ্টির পানি এবার আগে থেকে চলে আশায় পাট জাগ দিতে সুবিধা হচ্ছে তাদের। সবাই এখন পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য খালে-বিলে জমা হচ্ছে। প্রতি দিনই প্রায় পানি বাড়ছে, কেউ কেউ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাও করছেন তাই এবার দ্রুত পাট কেটে সবাই জাগ দেয়ায় ব্যস্ত।

পাট কাটা কৃষকরা আরো জানান, মাঝে ঝর বৃস্টির কারনে কিছুটা সমস্যার পড়তে হয়েছিল তোবুও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে অতি বৃষ্টির জন্য কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো হলে এ বছর একটু লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তারা।

উপজেলা পাট কর্মকর্তা জনাব আব্দুল বারি বলেন, আষাঢ় মাসের বৃষ্টিতে ১৫-২০% পাটের ক্ষতি হয়েছে, কিছু কিছু নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। এ বছর পাটের রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। বিছা ও যাব পোকার আক্রমন শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে তাতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তাই এবার পাটের ফলন ভালো হবে বলে মনে করছেন তিনি। বাজার ভালো থাকলে আগামীতে আরও বেশি আবাদ হবে।