সাংবাদিক হাফিজুল হক এর মানবিক দৃষ্টান্ত।


সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বৃষ্টি রানী পেশায় একজন সেবীকা (আয়া) সে নওগাঁর সাপাহার উপজেলাধীন আইহাই গ্রামের জীবন এর স্ত্রী। বৃষ্টি প্রতিদিন সকালে তার ছোট্ট কন্যা সন্তান কে বাড়িতে রেখে জীবিকার তাগিদে ছুটে যান তার কর্মস্থল উপজেলা সদরের একটি বে-সরকারি ক্লিনিক সাথী সেবা হসপিটালে।

বর্তমান চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো জেলাকে ঘোষনা করা হয়েছে লকডাউন। এমতাবস্থাতেও প্রতিদিন তাকে জীবন চালিকার তাগিদে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ২০/২৫ কিলোমিটার পথ। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে আসেন কর্মস্থলে সারাদিন নিয়োজিত থাকেন রোগিদের সেবায়।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার মত হবে এবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় সদরের মেডিকেল মোড়ে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে ভ্যান, অটো অথবা যেকোন ধরনের যান বাহন পেতে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, কিন্তু মিলছেনা কোন যান বাহন। এরমধ্যেই তার মোবাইল ফোনে রিংটন বেজে উঠলো। সে কাঁন্নার স্বরে বলতে থাকে আম্মু তুমি কেঁদোনা আমি গাড়িতে উঠেছি আর অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই বাড়িতে চলে আসবো।

এসময় কিছুটা দুরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম এর সভাপতি সাংবাদিক হাফিজুল হক। তিনি তার মোবাইলে কথপকথন শুনে তার কাছে জানতে চায় কি হয়েছে। তিনি ওই সাংবাদিকে বিস্তারিত বলেন এবং তাকে তার মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি আইহাই তে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন।

সাংবাদিক হাফিজুল হক তৎক্ষনাত বৃষ্টিকে নিজের মোটরসাইকেলে করে পৌঁছে দেন তার বাড়িতে এবং গিয়ে দেখতে পান মোবাইল ফোনে কথা বলা মানুষটি হলেন বৃষ্টির সাত বছরের কন্যা শিশু। সাংবাদিক হাফিজুল হক তাকে (বৃষ্টিকে) তার বাড়িতে রেখে এ প্রতিনিধিকে তথ্যগুলি জানান।