সর্ববৃহৎ আমের বাজার সাপাহার ল্যাংড়া ও হিম সাগরের আমরুপালির দখলে

আবু বক্কার, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের মেইন রাস্তার দু’পার্শ্বে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে কয়েক শ’ আমের আড়ৎ। আড়ৎগুলির সামনেই ব্যাটারি চালিত ভ্যান, আটো চার্জার ভ্যান, ভুটভুটি সহ বিভিন্ন বাহনে ঝুড়িতে করে সাজিয়ে বসছে নানা জাতের আমের পরসা।

এতে বরেন্দ্র ভুমিতে উৎপাদিত সুমিষ্ট রসালো ফল দখলে রেখেছে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে নানা জাতের গুটি, গোপালভোগ আমের ব্যাপক হারে আমদানী থাকলেও বর্তমানে তা খিরশাপাতি বা হিমসাগর ও ল্যাংড়া দখলেই রয়েছে আম বাজার।

রাজধানী ঢাকা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এবং স্থানীয় আম ব্যাবসায়ীরা কেউ আম আড়ৎ মালিক কেউ বা বেপারী হিসেবে প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম কেনা-বেচা করছে জেলার সর্ববৃহৎ এই আমের হাটে।

উপজেলায় আম বাজারজাত শুরু থেকেই নিরাপদ আম সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরিপক্ক আম বেচা-কেনার তারিখ নির্ধারণ করে দেন উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। আম বাজার মনিটরিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা পুলিশ কন্ট্রোলরুম।

বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমের বাজার দর মোটামুটি ভালো আছে। তবে আম্রপালী আম ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় এবার শেষ দিন পর্যন্ত দাম সহনিয় পর্যায় থাকবে বলেও আম আড়ৎদার ও আম আড়ৎ সমতির কেশিয়ার  মোঃ মাহমুদুল হাসান  এই বিষয়ে জানান , এবং বাগান মালিক গন জানান।

উপজেলায় উৎপাদিত হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আমের কারেন দেশেজুড়ে এমনকি বাহির দেশেও নওগাঁ জেলা সহ সাপাহার উপজেলা ইতিমধ্যে বিশেষ পরিচিত পেয়েছে। বর্তমানে উত্তর বঙ্গের সর্ব বৃহৎ এ আমের মোকামে প্রতিদিন যে পরিমান আম আমদানী ও কেনা বেচা হচ্ছে তাতে রুপালী আম বাজারে আসলে মোকামের চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে বলে ও আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী কার্তিক শাহা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার সদরের বাগানের  কয়েকজন বাগান মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান যে, ধান চাষ করে যে মুনাফা পাওয়া যেতে তার চেয়ে আম বাগানে কয়েকগুণ বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। একারনেই ধান চাষের জমিতে আম বাগান লাগানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি এ উপজেলায় এবারে প্রায় ৮ হাজার ২ শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে বিভিন্ন প্রকার উন্নত জাতের আম উৎপন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে ১২ মেঃ টন আম উৎপাদন হয়। এতে করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মেঃ টন আমের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা হতে পারে।

উপজেলায় প্রতি বছর এ মৌসুমে আম ব্যবসা ও বাজারজাত করনে এলাকার হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বৃহত্তর এই আমের মোকাম ও উৎপাদিত আমের কারনে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে উপকৃত হচ্ছে।

অপর দিকে সর্ববৃহৎ এ আমের মোকামের আড়ৎদার, আম ব্যবসায়ী, আম চাষি ও বাগান মালিক সহ বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। সব মিলিয়ে এ উপজেলার সর্বত্র আম কেন্দ্রীক উৎসব ও আমেজ বিরাজ করছে বলেও জানা গেছে।