শেরপুরে নিখোঁজ এর ১৪ মাস পর কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার।

এম এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরে নিখোঁজ হওয়ার ১৪ মাস পর পরিত্যক্ত ঘরের ভিটা মাটির নিচ থেকে আতিক নামে ১২ বছর বয়সী এক শিশু কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৫ মে, মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইয়ের চর কান্দাপাড়া গ্রামে অভিযুক্ত বাবুলের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে এ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, বলাইয়ের চর কান্দাপাড়া গ্রামের লতিফ মিয়ার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে আতিক গত বছরের ২২ ফেব্রয়ারী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরে তার বাবা শেরপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। সাধারণ ডায়েরীর প্রেক্ষিতে পুলিশ ছেলেকে উদ্ধার করতে না পারলে, গেল বছরের ৭ এপ্রিল প্রতিবেশী বাবুল মিয়া ও তার স্ত্রীকে আসামী করে আদালতে একটি অপহরণ মামলা করেন নিখোঁজ আতিকের পিতা লতিফ মিয়া।

পুলিশ মামলাটির কোন অগ্রগতি করতে না পারলে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বরে পিবিআই মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামী বাবুল মিয়া ও তার স্ত্রীসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে বাবুল মিয়া ছাড়া বাকী আসামীরা জামিনে রয়েছে।এদিকে ঘটনার কিছুদিন পর বাবুল মিয়ার পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে তাদের ভিটা পরিত্যক্ত পরে থাকে।

সেই পরিত্যক্ত ভিটা থেকে প্রতিবেশীরা নিজ নিজ প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এ দিন আতিকের বাবা ওই ভিটা থেকে মাটি কাটার সময় কঙ্কালের সন্ধান পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মাটির নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ভোক্তভোগী লতিফ মিয়া জানান,আমার ছেলের হাড়গুলো পাওয়া গেছে,ছেলেকে চাইলে তো আর কেউ দিতে পারবে না।কিন্তু ছেলে হত্যার সঠিক সুষ্ঠ বিচার চাই,আসামীদের ফাঁসি চাই। ছেলের মা রিজিয়া বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন,আমি এখনো কোন বিচার পাই নি।বাবুলসহ সকল আসামীর ফাঁসি দেখতে চাই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কঙ্কালটির ডিএনএ টেস্ট করার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা সরকার জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, অনেকদিন থেকে আমরা এই মামলাটির তদন্ত করছিলাম।চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম কোন ক্লু পাচ্ছিলাম না।যেভাবেই হোক আজ ভিকটিমের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। কারা এই কাজে জড়িত এদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। মামলাটির দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবী পরিবারের এবং এলাকাবাসীর।