রেলের জায়গায় প্লট বরাদ্দের নামে তুলকামাল। কোটি টাকার বানিজ্য

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার হালসা রেল ষ্টেশনের জায়গায় প্লট বরাদ্দের নামে কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে চীফ এস্টেট অফিসার (পশ্চিম) এর কার্যালয় রাজশাহীর আওতাধীন কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ১ নং হালসা রেলওয়ে রেলস্টেশনের জায়গায় গত ২৫-০৩-২০১৯ তারিখে ৪৩০ টি অনুমোদিত বাণিজ্যিক প্লটের অস্থায়ী লাইসেন্স প্রদান এর জন্য দর পত্র আহ্বান করে রেল কর্তৃপক্ষ।

দরপত্র আহবানের পর থেকেই ঐ চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালীরা প্লট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ বানিজ্য শুরু করে। এমনকি প্রতিটি প্লট বাবদ ৩০থেকে ৩৫হাজার টাকা আদায় করে আগ্রহী প্লট গ্রহিতাদের কাছ থেকে। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌছালে ৩০টি প্লট বরাদ্দ দিয়ে বাকী ৩৮১ টি প্লটের ১৯-০২-২০২০ইং তারিখে দরপত্র বাতিল করে। এছাড়া ১৯টি প্লট রয়েছে প্রক্রিয়াধীন মামলায়। একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা আমাদের থেকে প্লট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে টাকা নেয়।

কিন্তু টেন্ডার বাতিল হলে আমরা টাকা ফেরত চাইলে তারা নানারকম তালবাহানা শুরু করে। এমনকি তারা বলে রি-টেন্ডারে প্লট পাইয়ে দিবে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন জানায়, প্লট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি। তবে দরপত্র ক্রয় ও আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছিলো। আমার বিরুদ্ধে অর্থ বানিজ্যের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিম) এর কর্মকর্তা জানায়, দরপত্রের মাধ্যমে ৩০ টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩৮১ টি প্লট এর টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে এবং ১৯ টি প্লট মামলাধীন রয়েছে। অর্থ বানিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি, এমনকি দায়িত্বরতদের কাছে অভিযোগও এসেছে। যার কারনেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত রি-টেন্ডার হয়নি।