রিয়াল নিয়ে প্রত্যারনা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার বরগুনা প্রতিনিধি।

বরগুনার আমতলীতে রিয়াল নিয়ে প্রত্যারনা চক্রের দুই সদস্য কবির ওরফে খলিল (৫০) ও তৈয়ব আলী হাওলাদারকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে আমতলী থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মোবারক হাওলাদারের পুত্র খলিল হাওলাদার ও চাওড়া ইউনিয়নের উত্তর পাতাকাটা গ্রামের আঃ লতিফ হাওলাদারের পুত্র তৈয়ব হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে রিয়াল দিয়ে প্রত্যারণা করে আসছে।

গত ৯ জুলাই সকালে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার চাল ব্যবসায়ী মোঃ জসিম শিকদারকে প্রতারক তৈয়ব আলী মুঠোফোনে বলেন, জসিম ভাই আপনাকে আমি চিনি, আমি বেতাগীতে দীর্ঘদিন ভ্যানগাড়ী চালিয়েছি, আপনাদের বাসায় বাজার টেনেছি বলে দাবী করে তাকে একটি বিষয়ে উপকার করার জন্য অনুরোধ করেন। এসময় জসিম শিকদার কি উপকার করতে হবে তা জানতে চান।

তখন প্রতারক তৈয়ব আলী জানায় তার ভাই চট্রগ্রামের বৌদ্ধধর্মালম্বীর এক বাসায় চাকুরী করেন। ওই লোক কিছুদিন পূর্বে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তির কাপড়চোপর বাহিরে ফেলে দিতে গিয়ে সে ৮৫ হাজার রিয়াল পেয়েছে। এ গল্প সাজিয়ে ও রিয়ালগুলো কম টাকায় বিক্রি করার প্রলোভন দেখিয়ে ওই দিন জসিম শিকদারকে পটুয়াখালী এনে ৫০ টাকা দামের ৩টি ও ১০০ টাকা দামের ২টি রিয়াল দেখায়।

এ রিয়াল দেখে ব্যবসায়ী জসিম শিকদারের মনে কিছুটা বিশ্বাস স্থাপিত হয়। এর দুইদিন পরে গত ১১ জুলাই এ প্রত্যারক চক্রের কথামত ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পূনঃরায় পটুয়াখালী গিয়ে প্রত্যারক চক্রকে টাকাগুলো দিয়ে ঘামছা দিয়ে মোড়ানো একটি প্যাকেট তার হাতে ধরিয়ে দেয়।

কিছুদুর গিয়ে কৌতুহল বসত ব্যবসায়ী জসিম শিকদার প্যাকেটটি খুলে দেখেন তাতে একটি সাবান ও অনেকগুলো পেপার কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই। প্রত্যারক চক্রকে তিনি অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে বাড়ী চলে আসেন। প্রত্যারিত হয়ে বিষয়টি তিনি আর কাউকে বলেননি। এই একই চক্র ওই উপজেলার আরেক ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী মোঃ রুবেল মিয়াকে টার্গেট করে গত ১০ জুলাই রাতে মুঠোফোন কল দিয়ে একই কথা বলে।

বিষয়টি রুবেল পূর্বের ভিকটিম জসিম শিকদারের সাথে আলাপ করে। তখন জসিম শিকদার রুবেলকে জানায় এটা একটি প্রত্যারক চক্র, কিছুদিন পূর্বে তার কাছ থেকে প্রতারনা করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। তখন রুবেল মোবাইল নাম্বার চেক করে দেখে চাল ব্যবসায়ী জসিম শিকদারকে যে ফোন নাম্বার দিয়ে কল দিয়ে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সেই একই নাম্বার দিয়ে ব্যবসায়ী রুবেলকেও ফোন দিয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৫টার দিকে রিয়াল প্রতারক চক্রের সদস্য তৈয়ব আলী ব্যবসায়ী রুবেলকে আবার মুঠোফোনে কল দিয়ে বলে ভাই আমি বেতাগী আসতেছি আপনি আমার রিয়ালগুলো ভাংগিয়ে দিবেন। এ কথা বলেই ফোনের লাইন কেঁটে দেয়। এরপর সকাল ৯ টার দিকে আবারও রুবেলকে ফোন করে বলে ভাই আমি আমতলী আসছি আপনি আমতলীতে আসেন।

এরপর রুবেল এ প্রতারক চক্রটিকে ধরার জন্য পূর্বের ভিকটিম চাল ব্যবসায়ী জসিম শিকদারকে সাথে নিয়ে আমতলী আসে। এসময় গ্রেফতার হওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য রুবেলকে নিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তালার একটি কক্ষে যায়। সেখানে প্রতারক চক্র রুবেলের কাছে তিন লক্ষ টাকা দাবী করেন। তখন ব্যবসায়ী রুবেল প্রতারক চক্রের দু’সদস্য দুজনকে ধরে পুলিশকে জানায়।

পুলিশ গিয়ে প্রতারক চক্রের দু’সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে গামছা দিয়ে মোড়ানো ৫০ টাকার ৩ টা ও ১০০ টাকার ২ টি রিয়াল, একটি সাবান ও বেশকিছু পেপার কাগজ উদ্ধার করেন। আটক প্রতারক চক্র ব্যবসায়ী জসিম শিকদারের কাছ থেকে প্রতারনা করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, রিয়াল প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বেতাগীর চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আটক দু’প্রতারকের বিরুদ্ধে চাল ব্যবসায়ী জসিম শিকদার বাদী হয়ে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।