ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে দির্ঘ এক যোগ ধরে মহান আল্লাহ তায়ালার দয়া, আর মানুষের দুয়া ও সহযোগিতা নিয়ে দুটি মহিলা মাদরাসা পরিচালনা করে আসছে ২০০৮ সাল থেকে প্রিন্সিপাল মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল। ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম কিবরিয়া পলাশ এর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত দাওরায়ে হাদীস ক্লাস পর্যন্ত একটি মহিলা মাদরাসা যার নাম জামিয়া লোকমানিয়া মহিলা মাদরাসা, গ্রাম, চর ভবানী পুর, পোঃ চর খরিচা বাজার, ৫নং সিরতা ইউনিয়ন, উপজেলা, সদর, ময়মনসিংহ। আমারই ছোট ভাই বর্তমান প্রিন্সিপাল মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে।

মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুকুর গুজার করে বলেন, এই মুহূর্তে কওমী মাদরাসার হিফজ বিভাগ চালু করার অনুমতি দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদরাসার ছাত্র ছাত্রীদের নয়নের মণি হয়ে থাকবেন চিরকাল। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই, এতিম- অনাথ অসহায় বাচ্চাদের সাথেই তাঁর অনেক সময় কাটে। উনি ওদের কে বুঝতে চেষ্টা করে, ওদের জীবন নিয়ে ভাবে, উনার সপ্নগুলোকে বাস্তবে রুপ দিতে, ওদের দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে, একটা সুন্দর জীবন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রানে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলছে প্রিন্সিপাল মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল।

মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল এর দ্বারায় আরেকটি নতুন করে দাওরায়ে হাদীস ক্লাস পর্যন্ত জামিয়া নূর হোসেন মহিলা মাদরাসা, জয় বাংলা বাজার, সদর, ময়মনসিংহ এই নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান করোনা ভাইরাসের সংকটে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো, তাই বাধ্য হয়েই সকল ছাত্র -ছাত্রীদের কে ছুটি দিয়ে ছিলেন। অনেকেই থাকতে চাইলেও কোনভাবেই রাখা সম্ভব হয়নি, রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধ থাকার কারণে। প্রিন্সিপাল মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী শিমূল বলেন, কিছু মেয়ে আছে যারা বন্ধের সময়েও মাদরাসায় থাকে।

যাদের মা বাবা কেউ নেই। তাদেরকে পরামর্শক্রমে দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম। তিনি আরও বলেন, কিছু দিন যেতে না যেতেই শুধু ফোন, হুজুর কবে নিবেন? ওরাও ফোন দিত হুজুর কবে আসবো, এসে পরি? আমি শুধু বলতাম এই তো কটা দিন। আমি বুঝতাম ওরা আসলে ভালো নেই, কিন্তু কিছু করার ছিলোনা। আজ সবাইকে জানালাম মাদরাসা খোলা হয়েছে, রবিবার চলে আসতে, ৪ জন বাচ্চার আত্মীয় বলতেছে হুজুর এবার গেলে আর পাঠাবেন না। মা বাপ ছাড়া পোলাপান ভালো হয়না, খারাপের শেষ, ইত্যাদি আরো অনেক অভিযোগ।

( উল্লেখ্য মেয়ের ৪জনের মা বাবা কেউ নেই) চুপ করে শুধু শুনলাম, বললাম ঠিক আছে আর পাঠাবোনা ইনশাআল্লাহ। আমি জানি, এবার ছেলেগুলো আসার পর, তাদের তিক্ততার কথা আমাকে শুনাবে, ওরা বলবে হুজুর অনেক সময় পেট ভরে খেতে পারিনি, বলবে প্রয়োজনে কিছু টাকা চাইলে, রাগারাগি করতো, ধমক দিত, ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দিত। যারা একটু বয়সে বড়, বাস্তব জীবনের অনেক কিছুই যারা শিখে গেছে, তারা বলতে বলতে চোখের পানি মুছবে।কষ্টের একেকটি নিশ্বাস ছাড়বে।

আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুনতে থাকবো। আমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাবে। আমি ওদের সামনে হাসতে থাকবো,এমন পরিস্থিতিতে মুখে হাসি রাখাটা যে কত বড় কঠিন কাজ তা ভুক্তভোগী না হলে বুঝানো মুশকিল। কৃত্রিম হাসিত বুঝানোর চেষ্টা করবো, এগুলো কোন বিষয়ই নয়, এমনটা সবার সাথেই হয়। আসলেই কি সবার সাথে এমনটা হয়? ওরা অফিস থেকে চলে গেলে, আমার চোখ বাধ হারা হবে, আমার মায়ের কথা খুব মনে পরবে ( এমনই হয় সবসময়) ,আমি আরো কাঁদবো, দুয়া করবো।

আচ্ছা আসলেই কি সবাই এমন তাচ্ছিল্যের শিকার হয়? না, সবার সাথেই এমন হয়না, মা বাবা যাদের নেই তাদের অনেকের সাথেই এমন হয়, কারন তাদের আপন বলতে কেউ যে নেই। আসলেই কেউ নেই। মা বাবা যাদের নেই, তাদের মতো অভাগা আর কেউ নেই।

পরিশেষে অনুরোধ করবো, আসুন এতিমদের পাশে দাঁড়াই, তাদের মাথায় হাত রাখি। একটু আদর আর ভালোবাসায় বুকে টেনে নিই। আসুন একসাথে ওদেরকে বলি, প্রসস্থ এ পৃথিবীতে তোমার মা বাবা নেই, তাতে কি আমরা তো আছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকেই কবুল করুক, এতিমের সাহায্য কারী হওয়ার, তাদের পাশে থাকার তাওফিক দান করুক। আমীন।