মৃত্যুর পরেও হাজার বছরের জন্য জীবন্ত হয়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধু

ইয়াতুননেসা রুমা: স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমার কাছে শুধু এক আদর্শের নাম নয় বাংলাদেশ বলতে আমি বঙ্গবন্ধুকে বুঝি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি শিশুকাল থেকেই আমার কাছে খুব চেনা। একজন আপন মানুষ। এই মানুষটিকে আমার বাবা খুব ভালোবাসেন,ভক্তি করেন।

বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গিয়ে আমার বাবার চোখে আমি অশ্রু দেখেছি বহুবার। বঙ্গবন্ধুর সাথে সেই ছোটবেলায় আমার বাবা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমার বাড়ির দেয়ালে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবির মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছি এক কিংবদন্দিকে। সেই দূঢ় কন্ঠে ভাষন দেয়া বঙ্গবন্ধু আমার কাছে আত্মার আত্মীয় প্রাণের দোসর। যে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখে আমি বড় হয়েছি সেই বঙ্গবন্ধু আমার কাছে ভিষণ চেনা। আমার ঘরের মানুষ।

পৃথিবীতে কোন কোন দেশে একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়। যার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সেই দেশের মানুষের মুক্তি ঘটে। বাংলাদেশের মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৪৭ থেকে ৭১ । ৫২ এর এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা। দীর্ঘ ২৪ বছরের লড়াই সংগ্রামে তিনি বহুবার কারাভোগ করেছেন।

তাঁকে দমাতে পারেনি পাকিস্তানী মিলিটারী শাসকগোষ্ঠি। মিলিটারী শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান সহ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণা করে তিনি স্বাধীনতার আন্দোলনকে তরাণি¦ত করেছেন। ১৯৪৭ সালে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ধর্মকে কেন্দ্র করে দেশ ভাগ করা হয়। ১৪ আগষ্ঠ পাকিস্তান ও ১৫ আগষ্ঠ ভারত নামের দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জায়গা হয় পৃথিবীর মানচিত্রে।

সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানের অধীনস্থ হয় আমরা। সেই সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানের নাগরিকদের স্বাধীনতাকামী বাঙালী করে তোলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। যিনি এদেশের মানুষকে পরাধীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার শিকল ভেঙে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছেন। আর তাই বঙ্গবন্ধু মুক্তিমন্ত্রের দীক্ষাদাতা হিসেবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী হয়ে এদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আর বাঙালী এক এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাকে দেশ এবং জাতি সত্ত্বার সাথে বিচ্ছিন্ন করলে বাংলাদেশের অস্বিত্ব থাকেনা। তাঁর আপোসহীন নেতৃত্ব আর জ্বালাময়ী ভাষনের কারণেই ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার জীবনের সেরা রাজনৈতিক অবদান মুক্তিযুদ্ধ। তাঁর আজীবন সংগ্রামের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। তিনি যে শুধু বাংলার মানুষকে মুক্তি আর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তা কেবল নয়, তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তার উদাহরণ ১৯৭৪ সালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন। ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে বিদেশী শক্তি ও দেশীয় খুনী মোশতাকদের ষড়যন্ত্রে সেনাবাহিনীর বিপথগামী সেনা সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। এই দিনটি ইতিহাসের একটি জঘন্যতম কলঙ্কের দিন।

যেই মানুষটি ত্যাগ ও বীরত্ব দিয়ে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, যিনি বাংলা ও বাঙালি জাতিকে বড় বেশি ভালোবাসতেন। সেই বাঙালিরই কিছু স্বার্থান্বেষী ক্ষমতালোভী ঘৃণ্য পশুরা দেশের মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এখন দৃশ্যমান মৃত্যুর পরেও হাজার বছরের জন্য জীবন্ত হয়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধু।