মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে লীজের জায়গায় পুকুর ভরাট


আশিকুর রহমান রনি: পরিবেশ আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট করার বিরুদ্ধে এবং নির্মান কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মহামান্য হাইকোর্ট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালাইশ্রীপাড়ায় লীজের জায়গায় পরিবেশ আইন অমান্য করে বিদ্যানিধি পুকুর ভরাট করে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মহামান্য হাইকোর্ট আদেশ জারি করেছেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টের বিচারক এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের যৌথ বেঞ্চ এই রোলনিশি জারি করেন। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালাইশ্রীপাড়ার কুমারশীল মোড়স্থ বিদ্যানিধি পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করায় পরিবেশ রক্ষা কমিটির সদস্য আহসান উল্লাহ মাসুদ বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং- ৯৬৪৮/১৯।

এতে বিবাদী করা হয় ১০জনকে। বিবাদীরা হলেন, বাংলাদেশ সরকারের ভুমি সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র, সদর উপজেলার ইউএনও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আজিজুল হক ও ১০) চেম্বারের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর।

পিটিশন দায়েরের পর গত বছরের ১৮সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি আদেশ দেন। ওই আদেশে ৯-১০নং বিবাদীর অবৈধভাবে পুকুর ভরাট, স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে ১-৮নং বিবাদী ব্যবস্থা কেন নিবেন না ? এই বিষয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। সেই আদেশের সহিমোহরের কপি বাদী নিজে ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিয়ে আসেন। মহামান্য হাইকোর্টের এ আদেশের পর ও বাদী পক্ষ তাদের যাবতীয় কাজ চালিয়ে যায়।

এর পর গত ১১ফেব্রয়ারী হাইকোর্ট সেই রিটের উপর কাজ অবৈধ ভাবে নির্মান কাজ বন্ধ করতে আদালতের আবেদন করলে মহামান্য আদালত শোনানি করেন। শোনানিতে আদালত ৯নং বিবাদী চেম্বারের সভাপতি ও ১০নং চেম্বারের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর যেন ওই পুকুরটি ভরাট ও কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করতে পারে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ১ থেকে ৮নং বিবাদীকে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন।

এই আদেশ সম্মলিত ল্ ৩৯ ইয়ার সার্টিফাই কপি গত ২৬ ফেব্রয়ারী জেলা প্রশাসনের কাছে দিয়েছেন রিটের বাদী পরিবেশ রক্ষা কমিটির সদস্য আহসান উল্লাহ মাসুদ। রিটে বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী আলী আহসান মোল্লা। এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শাসছুজ্জামান বলেন, আমি এটি দেখি না। তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ইলিয়াস মেহেদির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।