ভালুকা লকডাউনের গামেন্টর্স চালু করায় পেটের তাগিদে গামের্ন্টসে যোগ দিচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা

শরীফ হোসেন  ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যে যেখানে লকডাইন প্রায় পুরো দেশ। সেই সময় ২য় ধাপে গামেন্টর্স চালু করায় পেটের তাগিদে গামের্ন্টসে যোগ দিচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা। চলছে রোযা সামনে ঈদ, হাতে টাকা নাই, ঘরে ভাত নেই, জীবিকা চলবে কেমনে, আবার চাকুরী হারানোর ভয়, এমনই এক কিংকত্যর্ববিমুঢ় পরিস্থিতিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরা।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ১শত ৫০টা কারখানা আছে। তাদের মধ্যে বিজিএমই ৫০টা,ও অন্যান্য প্রায় ১শত। সারা দেশ থেকে শ্রমিকরা এখানে এসে কাজ করেন। বিজিএমই সিদান্ত মোতাবেক বলা হয়েছিলো দূর থেকে কোন শ্রমিক না এনে সীমিত পরিসরে গামের্ন্টস চালু করার। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। চাকুরী হারানোর ভয়ে দূর হতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে রিক্সা, ভ্যান, রাতের আঁধারে ট্রাকে করে , পায়ে হেটে শত শত শ্রমিক আসছে ভালুকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানায়,সে স্থানীয় স্কয়ার ফ্যাশনে কাজ করে।গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় হতে ভালুকায় এসেছে বহু কষ্টে।চাকুরী হারানোর ভয়ে সে এসেছে কাজে যোগদান করতে। এমনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে কর্মস্থলে ফিরছে।

ফারুক নামে এক পোশাক শ্রমিক জানায়,কি করবো ভাই? পেটের তাগিদে কাজে যোগ দিচ্ছি। করোনায় মূত্যৃ না হলেও না খেয়ে তোর বাঁচতে পারবো না। পরিবারের সবাই আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে। পকেটে টাকা নেই,ঘরে খাবার নেই কি করে চলবে সংসার।

স্থানীয় স্কয়ার ফ্যাশনের প্রাশাসনিক শাখার জিএম মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা রবিবার হতে ফ্যাক্টরী চালু করেছি। আমরা দূর হতে শ্রমিক না আসতে বলছি। কিন্তু কেউ যদি চুপিসারে চলে আসে আমাদের কি করার আছে। তারা স্থানীয়ভাবে ভাড়া নিয়ে বাসায় থাকে। আমরা শ্রমিক পরিবহনের সব গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছি। যারা ডরমেটারীতে থাকে তারা আর যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা আছে।

তাছারা আমরা সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে ফ্যাক্টরী চালাচ্ছি । শ্রমিকদের পারিবারিক হিস্ট্রি নেওয়া হচ্ছে কেউ অসুস্থ কিনা ,জ্বর ,কাশি,আছে কিনা তাও যাচাই করা হচ্ছ্। ১০০% থার্মাল টেষ্ট করা সহ হাঁত ধোঁয়া ও জীবাণু  নাশক স্প্রে করে ফ্যাক্টরীতে ডুকাচ্ছি। আর ভিতরে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে তাদের কাজ করতে দিচ্ছি। বর্তমানে আমার কারখানায় ৪০% শ্রমিক আছে।

ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ওযায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান,গত রবিবার হতে মহাসড়ক দিয়ে প্রচুর পোশাক শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে গেছে। তারা পায়ে হেঁটে,রিক্সা,ভ্যান ও ট্রাকে করে গেছে। আমরা তাদের ট্রাক হতে নামিয়ে দিলে তারা হেঁটেই কর্মস্থলে গেছে। তিনি আরও জানান,এসব শ্রমিকদের বাড়ী কোথায় জানতে চাইলে তারা জানান,ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন থানা, শেরপুর, নেত্রকোণা ও জামালপুর হতে তারা আসছে।

ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার(এসপি) মোঃ সাহেব আলী পাঠান জানান, ভালুকায় রবিবার হতে  আজ পর্যন্ত ৮১টি ফ্যাক্টরী চালু হয়েছে। দূর হতে শ্রমিক না আনতে তাদের বার বার বলা হচ্ছে। তবে আমরা যতটুকু

দেখছি তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছে। তিনি জানান,কারখানায় ডুকতে ও বাহির হতে সময় শ্রমিকরা সামাজিক দূরুত্ব মানছে না। তবে ভিতরে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখছে কর্তৃপক্ষ। করোনা বেশী আক্রান্ত এলাকা ঢাকা,নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর হতে তাদের ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক না আনতে তাদের বলা হয়েছে।