ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্টাফদের দুনীতি ও অনিয়মের অভিযোগে।

শরীফ হোসেন  ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূর্নীতি ও অনিয়ম সিন্ডিকেটের অন্যতম রবিউল আলম ও বদরুল আলম গংদের অনৈতিক কর্মকান্ড ও হুমকি প্রদর্শন সহ অসদাচারণের প্রতিবাদে ২ মে শনিবার বিকালে সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সোহেলী শারমিন এর মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪৩ জন স্বাক্ষরিত উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগণ।

ওই অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। ওই অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিন্ডিকেটের অন্যতম উপসহকারী মেডিকেল অফিসার রবিউল আলম ও সিনিয়র স্টাফ নার্স বদরুল আলম আনুমানিক ১০/১২ বছর যাবৎ এখানে কর্মরত আছেন।

তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভালুকার অনিয়ম ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট এর অন্যতম অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আঃ রাজ্জাক, ক্যাশিয়ার ওয়াজেদ আলী, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার রবিউল আলম, সিনিয়র স্টাফ নার্স বদরুল আলম গংদের অনিয়ম দুর্নীতি ও সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ গুলোর মাঝে- অত্র হাসপাতালের বহিঃবিভাগের রোগীদের টিকেটের টাকা আত্মসাৎ। হাসপাতাল ও জরুরী বিভাগের মূল টিকেট ফটোকপি করে সিরিয়াল নম্বর একই অর্থাৎ ডপ্লিকেট টিকেট ছাপিয়ে উহাতে সিল দিয়ে রোগীদের নিকট থেকে ৫ টাকা আদায়। টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজ পত্রাদি সি,এস অফিসে পাঠানোর সাথে সাথে তাহাদের পরিচিত বহিরাগত চক্রান্তকারী লোকজন দিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। উক্ত কর্মচারীদের মদদে ভূয়া জখমী সার্টিফিকেট প্রদান কাজে জড়িত। কর্মচারীদের পরোক্ষ সহযোগীতায় ইওসি সেকশনে নার্সিং স্টাফগন রোগীদের কাজ থেকে ডেলিভারী বিনিময়ে অর্থ আদায় নিয়ম চালু।

কর্মচারীরা পূর্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালকরে তাহারা নিজেরাই ভাউচার লিখে ইনিসিয়াল দিয়ে সরকারী অর্থ তাহারা আত্মসাৎ করা সহ প্রতিবছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের টাকা ও হাসপাতাল মসজিদের উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ সহ বাহিরের মটর যান/এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ক্যাম্পাসে সংরক্ষন করার অনুমতি দিয়ে তাহারা অবৈধ অর্থ আদায়, হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের পথ্যের হিসাবের গড়মিল করা, হাসপাতালের পুরাতন লোহার মেইনগেইট কর্তৃপক্ষরে বিনা অনুমতিতে বিক্রি করে উহার অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ইতিমধ্যে ন্যায় নীতির ধারক বাহক হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেছেন ডাঃ সোহেলী শারমিন। তিনি যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সেক্টরের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক হাজারো অনিয়ম ও সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এর অসংখ্য প্রমাণ উদঘাটন পূর্বক এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং এ সকল দূর্নীতি কঠোর হন্তে দমন করতে চাইলে কুচক্রী মহল ও স্বার্থ ভোগীদের কতিপয় অসাধু কর্মচারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এহেন করোনা বিপর্যস্ত মহামারী প্রাককালে ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও গাঁ বাঁচাতে ৩০ এপ্রিল এ বিভাগীয় নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে মানব বন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ এস,এম শহীদুল্লাহ উক্ত নিন্দনীয় ঘটনার প্রতিবাদ করিলে রবিউল আলম, বদরুল আলম গং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ কিলঘুসি মারতে উদ্যত হন। জনৈক কামরুজ্জামান রবিউল আলমকে ফিরিয়ে নেন। রবিউল আলম এস,এম শহীদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়। এঘটনায় উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী এবং সি,এইচ,সি,পি কর্মকর্তাগণসহ ৪১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্ধ গণস্বাক্ষর করে জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে যথাযথ কর্তৃপক্ষরে মারফত উক্ত ঘটনার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক সুবিচারের আবেদন জানান।

অভিযুক্ত রবিউল আলম বলেন, আমি সরকারী হাসপাতালের সাধারণ একজন স্টাফ আমি তো হাসপাতাল পরিচালনা করার কেউ না। তবে আমি অর্থ আত্মসাৎ করবো কিভাবে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাহা ব্যক্তিগত আক্রোশে। আমি ঐসকল অভিযোগের সাথে জড়িত নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সোহেলী শারমিন জানান, কিছু কর্মচারীদের দূর্নীতি আমার কাছে ধরা পরায় এবং আমি যোগদানের পর দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে দূর্নীতিবাজরা অসধাচারণের অভিযোগ করেন, তা সঠিক নয়। এসব বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।