ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তিস্তার ভয়ংকর রুপ,

রেজা মাহমুদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজানের পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা বর্তমানে ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে। গত শনিবার সকালে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রভাহিত হয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে তা ২ সেমি নিচে নেমে যায়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ টি গেটেরই জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস ( ফ্লাড ফিউজ) এর কাছে ঢলের পানি এখনো ৩ ফিড নিচে রয়েছে। তাই লাল সংকেতের এখনি পরিস্থিতি সৃস্টি হয়নি। তবে হলুদ সংকেতের মাধ্যমে নদী পাড়ের লোকজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র হতে জানা যায়, গতকাল শনিবার ওই পয়েন্টের অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৬২ মি.মি। গত ৫ দিনের গড় বৃষ্টিপাত ২২৬ মি.মি। ওই পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। গত শুক্রবার বিপদসীমার ৫ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ৪৫ সে.মি বৃদ্ধি তা বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃস্টি
হয়েছে। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, শুক্রবার রাতে নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে।

এতে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই,খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি,ঝুনাগাছ চাপানি, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৈলমারী ও কৈমারী উপজেলার ১৫ টি তিস্তার চর নদীর পানিতে প্লাবিত হয়। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের কৃষক মাজেদ বলেন,যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আতঙ্কে আছি। তিনি আরো জানান চরের জমিতে তার লাগানো বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরখড়িবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাধের ৬০ মিটার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতে তাদের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় তার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর ররহমান চৌধুরী বলেন ২৪ ঘন্টায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে,বন্যাদূর্গত এলাকায় ত্রান পৌছে দেয়া হবে।