বাড়ীভাড়া দিতে না পারায়, বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া পরিবারের পাশে, ওসি মাইন উদ্দিন।

শরীফ হোসেন ভালুকা প্রতিনিধি: -ময়মনসিংহের ভালুকায় ভালুকা পৌর এলাকায় ৩নং ওয়ার্ডে খান বাড়ি মোড় রাস্তা। মঙ্গলবার রাত ৮টা লকডাউনে নিয়মিত টহলে ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন। সেই সময় ভালুকা পৌর এলাকায় ৩নং ওয়ার্ডের খাঁনবাড়ীর মোরে রাস্তায় বসে এক বৃদ্ধা মহিলা তার ছেলে ,ছেলের বউ ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে রাস্তার ধারে বসে বসে কাঁদছেন সেই সময় ওসির নজরে আসে তাদের।

গাড়ী থেকে নেমে তাদের কান্নার কারণ জানতে চেয়ে এক হ্নদয় বিদারক কথা শুনেন। বাড়ীভাড়ার জন্য তাদেরকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে বাড়ীওয়ালা। সাথে তাদের থাকার ঘরে তালা দিয়েছে । এত রাতে সে কোথায় যাবে? লকডাউনের জন্য সব বন্ধ। কোন কাজ কর্ম নেই। বৃদ্ধার বাড়ী নেত্রকোনা জেলায়। তারা ভালুকা থেকে অটো রিকসা চালাতো। বর্তমানে সবই বন্ধ । ঘরে খাবার নাই।

কিভাবে পরিশোধ করবে বাড়ীভাড়া। রাস্তার ধারেই বাড়ীওয়ালা আজিজুল হকের বাড়ী,তাকে ডেকে এনে ওসি জানতে চাইলেন,কত টাকা বাড়ীভাড়া বাবদ পান? বাড়ী ওয়ালা বললেন ২হাজার টাকা। সাথে সাথে ওসি মাইনউদ্দিন নিজ পকেট থেকে ২হাজার টাকা পরিশোধ করে দিয়ে বৃদ্ধাকে বাড়ী নিয়ে গেয়ে ঘরের তালা খুলে তাদের ঘরে রেখে চলে আসেন।

বিষয়টি সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তার ফেইজবুকে আপলোড দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য কমেন্টে বাড়ীওয়ালাকে তীরস্কার ও ওসিকে ধন্যবাদ জানান ভালুকার শত শত মানুষ।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে আমাদের ভিতরের মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে পারে নাই। টাকার কাছে আজ সামাজিক মূল্যবোধ বন্দি। মানুষ মানুষের জন্য কথাটি প্রবাদ বাক্য থেকে বাস্তবে রুপ দিলেন ওসি। করোনা ভাইরাসে নিজে মাথায় নিয়ে ত্রাণ দিচ্ছেন পুলিশ। জানাযা পরাচ্ছেন পুলিশ। রাস্তায় সন্তানরা মাকে ফেলে রেখে যাওয়া সেই মাকে হাসপাতালে নিচ্ছেন পুলিশ।পরিবার ফেলে রাস্তায় পুলিশ। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে নিজের জীবনকে বাজি রেখে কাজ করছে পুলিশ। এমন মানবিক পুলিশই আমরা চাই।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ,এবং বাহাবা পাওয়ার জন্য এই কাজ করি নাই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই একটি অসহায় পরিবারকে সাহায্য করতে পেরে অনেক তৃপ্তি পাচ্ছি।তাদেরকে বলা হয়েছে কোন সমস্যা হলে আমার সাথে যোগাযোগ