বাস-মাইক্রোবাস সংর্ঘষে আগুনে পুড়ে প্রান গেল ৬ জনের


অশিকুর রহমান রনি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামপুরা-চান্দুরার মধ্যবর্তী স্থানে শুক্রবার ভোর রাতে বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ ভষ্মীভ‚ত হয়ে ৬ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ৪ যাত্রী আহত হয়। ঘটনা পর মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৩ টি ইউনিট ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে হতাহতদের উদ্ধার করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিজয়নগর উপজেলার ভাটি কালিসীমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় আড়াইটায় ঐ স্থানে দুটি যানবাহনের মধ্যে বিকট শব্দ হয়। এরপর মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। মূহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। ভেতরে থাকা যাত্রীরা চিৎকার করে বাাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের ব্যাপকতায় কিছুক্ষনের মধ্যেই ৫ জন যাত্রী পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায়। অন কে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। দগ্ধ অবস্থায় ৫ জন যাত্রী গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। তাদের প্রথমে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলো সোহান (২০), সাগর (২২), রিফাত (১৪) , ইমন (১৯), শাহীন (২৫) ও হারুণ (৪০)। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে মাইক্রোবাসে করে ১০ জন সিলেট মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রামপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া লিমন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এতে মাইক্রোবাসের সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ হলে ছয় যাত্রী অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মারা যায়। সকালে দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

মরদেহ চিনতে হিমশিম খেতে হয় ! ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গের মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে রাখা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সবগুলো অর্থাৎ ছয়টি মরদেহের অবস্থা প্রায় একই। আগুনে ঝলসে গেছে প্রতিটি মরদেহ। ভাগ্নেকে না চিনতে পারার আক্ষেপে চোখে জল ঝরছিল মামার। বুক ভরা কষ্টে কাঁদছিলেন আর আর্তনাদ করে বলছিলেন, কী ভাবে মরদেহ চিনব। চিনবার যে কোনো উপায়ই নেই। কাঁদতে কাঁদতে একই কথা বলছেন, নিহত সাগরের ভাই মোঃ সজিবও।

খবর পেয়ে এসেছিলেন মরদেহ শনাক্ত করতে। কিন্তু তিনিও চিনতে পারছেন না প্রিয় ভাইটির মরদেহ। তিনি বলেন, সবকটি মরদেহ প্রায় একই। চেনা যাচ্ছে না কোনটি কার মরদেহ। স্থানীয়রা বলছে, আমরা প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের বিভিন্ন জিনিসপত্রও পুড়ে গেছে। ছয়জনের মধ্যে কোন মরদেহ কার, এটা এখনও পর্যন্ত চেনা যাচ্ছে না। সবগুলোই পুড়ে আঙ্গার হয়ে গেছে। পরে পুলিশ তাদের ব্যবাহ্রত জিনিস দেখে মরদেহ শনাক্ত করে। মরদেহ গুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

সবার দৃষ্টি মাইক্রোবাসের দিকে ! শুক্রবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস- মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পরপরই মাইক্রোবাসটির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছয়জন নিহত ও চারজন আহত হন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুছড়ে ও আগুনে পুড়ে ছারখার। গাড়ীর লোহা বাদে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর সড়কে ছিটিয়ে আছে গাড়ির ভাঙা গ্লাস। সড়কের বিপরীত পাশে পড়ে লিমন পরিবহনের বাসটি। যার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিভে যায় ছয়টি তাজা প্রান।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল খালেক বলেন, মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যাওয়ায় চারদিক আলোকিত হয়ে উঠে। আশপাশের লোকজন এসে প্রথমে চার জনকে বের করতে পারলেও আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অন্যদের বের করতে পারে নি। দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছিল তখন। পলাশ নামে আরেকজন বলেন, বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে এসে দেখি মাইক্রোবাসে আগুন। রাত গভীর হওয়ায় তাদের উদ্ধারের জন্য আশেপাশে তেমন কেউ ছিল না। প্রায় ৩০ মিনিট পর উদ্ধারকারী দল এসে আগুন নিভিয়ে অগ্নিদগ্ধদের গাড়ি থেকে বের করে। এর আগেই পুড়ে শেষ হয়ে যায় ৬জন জীবন্ত মানুষ।