বাম্পার ফলন হলেও ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক।

বিল্লাল হোসেন, পলাশ নরসিংদী: চলমান করোনা পরিস্থিতিতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ফসল ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে কৃষক। ধান পাকার সাথে সাথে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পলাশ উপজেলার কয়েকশত কৃষক পরিবার। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এ বছর বোরো আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। ধানে পাকা রংও ধরছে। দুই এক দিনের মধ্যেই ধান কাটতে হবে।

কিন্তু করোনার কারনে ধান কাটার শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছেনা। আগে উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আসতো ধান কাটার। কিন্তু করোনার মহামারীতে সবাই বাড়ী চলে গেছে তাই দুশ্চিন্তায় আছি ধান কাটা নিয়ে। চরসিন্দুর ইউনিয়নের কৃষক বদর উদ্দিন জানান, অনেক ভালো বোরো ধানের ফলন হয়েছে এবার। কিন্তু করোনা আতংকের কারনে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক পাব না। যারা নিয়মিত ধান কেটে দিত এবার তারা আসবে না। তাই ধান কাটা নিয়ে বিপাকে আছি।

ডাংগা ইউনিয়নের অপর কৃষক ফারুক মিয়া জানান, বাম্পার ফলন হয়েছে এ বছর বোরোর। অন্য বছর দেশের কয়েকটি জেলা থেকে অনেক ধান কাটা শ্রমিক আসতো। করোনা আংতকের কারনে এবার শ্রমিকও আসবে না। কৃষকরা আরো জানান, ধান কাটার পর আমরা পড়বো আরেক সমস্যায়। চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকে সরকার খাদ্য গুদামে ধান কিনা শুরু করবে।

কিন্তু আমরা বর্গা ও প্রান্তিক কৃষকরা সরকারী খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারি না।আমরা যাতে সকল কৃষক এ রোরো ধান বিক্রি করতে পারি সরকার যেন ব্যবস্থা করেন। এদিকে পলাশ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্ষালয় সূএে জানা যায় এ বছর ৩৪৫ টন ধার ক্রয় করা হবে।এ খবরে পলাশের কৃষকের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ধান ক্রয় না করলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবে বলে জানান একাধিক কৃষক।

এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম  জানান, এবার পলাশে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। ৪০২০ হেক্টর জমিতে এ বছর বোরো ধান আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে এবার  সাড়ে ৪ টন চাউল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে এবার ধান কাটার লোকজন উত্তরবঙ্গ থেকে আসছে পারছে না।

তাই কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা পলাশে ১টি ধান কাটার মেশিন (কম্বাইন হারভেষ্টার) দিয়েছি চরসিন্দুরের শামীম ভুইয়া নামে এক কৃষককে।তার কাছ থেকে প্রতি ইউনিয়নের কৃষকরা ভাড়া নিয়ে ধান কাটতে পারবে। আশা করি পলাশে ধান কাটার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এ মেশিন দিয়ে প্রতি ঘন্টায় ১ একর জমির অর্থাৎ ১০০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব এবং ১ একর জমির ধান কাটতে খরচ পরবে মাত্র ১৫০০ টাকা।