ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনে সদর উপজেলার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ

বিধান মন্ডল ফরিদপুর প্রতিনিধি: ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ বাতাস নিসর্গ প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল আকাশেরই অশ্রুপাত।

ভেজা বাতাস কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। ঘাতকদের উদ্যত সঙ্গিনের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। অনির্বাণ সেই শোক এখনও বাংলায় নদীর স্রোতের মতো চির বহমান। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। ১৫ আগস্ট শোকার্দ্র বাণী পাঠের দিন, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

এবার বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির প্রকোপ থাকায় যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে  অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর সদরের জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মাসুম রেজার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যুগোপযোগী  দৃষ্টিনন্দন নানাবিধি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আধুনিক পদ্ধতিতে “বঙ্গবন্ধুর মোড়াল নির্মাণ” মোড়ালের দুইপাশে সবুজের সমারোহ তৈরী করতে উন্নতমানের ঘাস রোপণ করা হয়েছে, মোড়াল সংলগ্ন স্থান টেকসই আরসিসি করন যার কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে আশা করা যাচ্ছে এটি ফরিদপুরের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে রূপান্তরিত হবে।

নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সম্মুখে “মুজিব বর্ষ কর্ণার” স্থাপন করা হয়েছে। এখানে পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কিত সকল বয়সীদের পাঠযোগ্য বইয়ের বিশাল সমাহার, যে বই থেকে বঙ্গবন্ধুর জিবন সম্পর্কে সঠিক রূপে জেনে উপকৃত হবে আগত সকল বয়সের মানুষেরা।

আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকগণ ছিলেন অত্যন্ত দক্ষতা সম্পন্ন। দুপুরের মধ্যেই চিত্রাংকন, কবিতা, কাব স্কাউট প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরা ছবি বাড়ি থেকে একেঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

এরপরে পর্যবেক্ষণ করে বিজয়ী প্রতিযোগী নির্বাচন করে, বিকাল ৪টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত সদর উপজেলা চত্বরে আধুনিক রূপে নব নির্মিত বঙ্গবন্ধুর মোড়াল কর্নার ও নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সদর ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা। পুরুষ্কার গ্রহণ করতে এসে প্রতিযোগীরা তাদের স্ব-রচিত কবিতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আবৃত্তি করে শোনান। এসময় তিনি মুগ্ধ হয়ে তাদের কবিতা আবৃত্তি গুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস সম্পর্কে ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা বলেন, বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না এবং এই মহান পুরুষকে যারা নির্মমভাবে স্ব-পরিবারে হত্যা করেছে তাদের প্রতি তিব্রো নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নতুন প্রজন্ম উজ্জীবিত হয়ে আগামীর পথ চলাকে সুগম করতে পারে এই লক্ষেই মুজিব বর্ষের নানাবিধ আয়োজন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনন্দিত উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা একাডেমিক অফিসার, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ কারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকগন, শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা, স্বেচ্ছাসেবীগন, গনমাধ্যমকর্মী সহ অন্যান্যরা।