ফরিদপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও সচেতনতা শীর্ষক প্রেসব্রিফিং সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিধান মন্ডল ফরিদপুর প্রতিনিধি: “মুজিব বর্ষের আহবান, দক্ষ হয়ে বিদেশ যান” এই শ্লোগানকে ধারণ করে ফরিদপুরে উপজেলা পর্যায়ে “বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা” শীর্ষক প্রচার ও প্রেসব্রিফিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলা হল রুমে।

আজ ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুরের পৌর প্যানেল মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান সাবুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মোল্লা, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশাররফ আলী, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন। এছাড়াও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আমিনুর রহমান ফরিদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হাসানুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক প্রথমআলো জেলা প্রতিনিধি পান্না বালা সহ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও নানানবিধ শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য জনসচেতনতা সৃজনের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠীপদ রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা সমবায় অফিসার বিরাজ মোহন কুন্ডু।

প্রেসব্রিফিং ও সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিলেন, “নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃজনের পরিকল্পনা আমাদের আছে এবং প্রতি উপজেলা হতে গড়ে ১০০০ জন যুব বা যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে”। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, ১৯৭৬ সাল হতে বাংলাদেশ বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ শুরু করেছে। বর্তমানে ১৭৩টি দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষের অধিক বাংলাদেশী কর্মী বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। তারা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়নের অধিক মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করে থাকেন যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বর্তমানে বছরে প্রায় ৭ লক্ষ অভিবাসীর কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশে হয়ে থাকে। তাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা আমাদের জন্য এক আলোকবর্তিকা।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের চাওয়া দেশের যুব বা যুব মহিলারা নিজেরা উদ্যোক্তা হবে এবং তারাই অন্যদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। যারা বিদেশ যেতে চান তারা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তাহলে তাদের বিদেশ গমন বৈধ হবে। আর বৈধ প্রবাসীদের জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ রয়েছে। বৈধ প্রবাসীদের সন্তানের জন্য দেশে শিক্ষা বৃত্তি চালু রয়েছে। প্রবাসে অসুস্থ হলে বৈধভাবে গমনকারী ১জন কর্মীকে চিকিৎসা বাবদ সরকার ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করে থাকে।

বিভিন্ন কারনে যাদের বিদেশ থেকে ফেরত আসতে হয় যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে তাদেরকে সরকার ১ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে আবেদনকারীরা লোন নিতে পারবেন। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর লাশ পরিবহন খরচ ও দেশে সৎকারের জন্য নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং মৃত কর্মীর ওয়ারীশকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মন্ত্রণালয় হতে সাহায্য দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রবাসীদের সুরক্ষার জন্য বীমা পলিসি চালু করা হয়েছে। তাছাড়া বিদেশ গমনিচ্ছু কর্মীকে দেশ ব্যাপি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৬৩টি শাখা অফিস থেকে স্বল্প সুদে ও জামানত বিহীন ঋণ প্রদান করা হয়। তিনি আরও বলেন, যারা দালালের মাধ্যমে বিদেশ গমন করেন অচিরেই এ সকল দালালদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তিনি দালালের মাধ্যমে বিদেশ গমনে নিরুৎসাহিত করেন।

পরিশেষে, বিদেশে গিয়ে কেউ যাতে প্রতারিত না হয়; সে জন্য সকলকে সজাগ থেকে জেনেশুনে বিদেশ যেতে এবং নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে সকলের সহযোগীতা কামনা করা হয় সেমিনারে।