ফরিদপুরের সালথায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ।

বিধান মন্ডল  (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসিব সরকারের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও বিবাহের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে বর ও কনের পরিবারকে সতর্কতা সহ জরিমানা করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, রবিবার ৯ আগস্ট দুপুর ১ টায় সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া মধ্যকান্দা গ্রামের দলিলুদ্দীন মৃধা (৭০) এর ৯’ম স্রেনী পড়ুয়া ১৬ বছরের নাতনী এর সাথে ফুলবাড়িয়া এলাকার ১৯ বছরের ছেলের বিয়ের আয়োজন করেন উভয়ের পরিবার।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসিব সরকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন বিষয়টি। পরে তিনি থানা পুলিশের একটি টিম সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এবং খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন মেয়ে এবং ছেলে সার্টিফিকেট অনুযায়ী উভয়ের বিয়ের বয়স হয়নি।

এসময় ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে এক সাথে করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দিতে সতর্ক করে দেয়া হয়। পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১৬ বছর বয়সী নাতনীর বিয়ের আয়োজন করায় মেয়ের দাদা দলিলুদ্দীন মৃধা কে ৩০০০/- (তিন হাজার) ও বাল্যবিবাহ করতে আসা পাত্র কে ৩০০০/-(তিন হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, বরপক্ষ ও মেয়েপক্ষ উভয়ই সরকার নির্ধারিত মেয়েদের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বাল্যবিবাহ করবেন না মর্মে স্ট্যাম্পে মুচলেকা প্রদান করেছেন। মেয়েকে যেন অভিভাবক গোপনে অন্যত্র বিয়ে দিতে না পারে এজন্য স্থানীয় একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ইউএনও আরো বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৭ ধারা মতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করতে আসার অপরাধে বরকে ৩ হাজার টাকা এবং একই আইনের ৮ ধারা মতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেবার আয়োজন করায় মেয়ের দাদাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।