প্রধান শিক্ষকের ‍বিরদ্ধে বিস্কুট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ।

ভোলা(দক্ষিন)প্রতিনিধি: বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে বিস্কুট পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন ২২নং মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মোঃ জাকির। এছাড়াও বিস্কুট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে অহরহ।

জানা যায়, করোনায় বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলফিডিংয়ের ৫০ প্যাকেট বিস্কুট বিতরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অত্র স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য মোঃ ইউছুফ ডাক্তার ও মোঃ বিল্লাল জানায়, অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির ছাত্র-ছাত্রীদের বিস্কুট নিতে স্কুলে আসতে বলেন।

দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসার কথা শুনে ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা। ফলে (২০মে) মঙ্গলবার সকাল ৭.৩০মিনিট থেকে স্কুলের ভিতর শুরু হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন সমাগম। ভেঙ্গে পরে সামাজিক দুরত্ব মানার নির্দেশনাও। এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষার্থী মোঃ রায়হান (২য় শ্রেণী), মোঃ মামুন (২য় শ্রেণী) ও তামান্না (৪র্থ শ্রেণী) বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির স্যার আমাদেরকে বিস্কুট নেওয়ার জন্য স্কুলে আসতে বলে তাই আমরা এসেছি।

কিন্তু আমরা ৫০প্যাকেটের যায়গায় কেউ ১৫ প্যাকেট আবার কেউ ১৭ প্যাকেট বিস্কুট পেয়েছি। উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন,এভাবে বিস্কুট বিতরণ করা ঠিক হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে কখন শিশুরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এছাড়াও পরিমানমতো বিস্কুট দিচ্ছেনা প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহাকারি শিক্ষক মোঃ ফয়সাল সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মোতাবেক ৭.৩০ স্কুলে শ্রেণীকক্ষে শ্রেনী অনুযায়ী বিস্কুট বিতরণ করছি।

এ ব্যপারে অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির বলেন, আমি উপরের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত বিস্কুট বিতরণের জন্য আজ ২০মে সকাল ৭.৩০ মিনিট থেকে বিস্কুট বিতরণ শুরু করেছি। তবে যে সমস্ত শিক্ষার্থীদের বিস্কুটের লিস্টে নাম নাই আমরা তাদেরকে ১৫ প্যাকেট এবং ১৭ প্যাকেট বিস্কুট দিয়েছি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবির বিস্কুট বিতরণে অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, স্কুলে বিস্কুট বিতরণের কথা থাকলেও ম্যানিজিং কমিটির কাউকে অবহিত করেনি প্রধান শিক্ষক জাকির।

সকালে স্কুলের ভিতর শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের হৈ চৈ শুনে আমি সহ কমিটির আরো দুই সদস্য স্কুলে এসে দেখি সহকারি শিক্ষকরা বিস্কুট বিতরণ করতেছে, তবে স্কুলে প্রধান শিক্ষক জাকির উপস্থিত ছিলেন না। আরো দেখি কেউ কেউ ১৫ ও ১৭ প্যাকেট করে বিস্কুট পাচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৃষিত কুমার জানান, এ রকম অনিয়ম যদি আমার কোন শিক্ষক করে থাকে তাহলে আমি ব্যবস্থা নিবো। আমাকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিষয়টি অবগত করেছে। আমি লিখিত আকারে একটি দরখাস্থ দিতে বলেছি।