পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাবীতে একযোগে উপজেলার ১৩ বাজারে মানববন্ধন

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাবীতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের সদর রোডসহ উপজেলার প্রসিদ্ধ ১৩টি বাজারে একযোগে অর্ধলক্ষাধিক লোক মাস্ক ব্যবহার করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে সরকার দলীয় লোক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন।

জানা গেছে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমতলী-তালতলী সংসদীয় আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তার প্রতিশ্রতি অনুযায়ী ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি তালতলীতে উপজেলায় রূপান্তর করেন। উপজেলা ঘোষণার সাড়ে ৮ বছরেও হয়নি উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

সাগড় পারের তালতলী উপজেলা অত্যন্ত দুর্গম। প্রতিনিয়ত তারা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। অথচ উপজেলায় নেই কোনো হাসপাতাল। নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু অসহায় দরিদ্র রোগীদের আল্লাহর ওপর কিংবা ওঝা কবিরাজের ওপর ভরসা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না। এখানে পূর্নাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় জেলা সিভিল সার্জন মহোদয় এখানে ডাক্তার, ওষুধ সামগ্রী, অ্যাম্বুলেন্স ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতিসহ কিছুই দিতে পারছে না।

পারছে না রোগীদের জন্য আউটডোর ও ইনডোর ব্যবস্থা চালু করতে। বছরের পর বছর তালতলী উপজেলা পূর্নাঙ্গ হাসপাতাল চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি চালাচালি করলেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানান স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তালতলী উপজেলার সচেতন নাগরিক পরিষদের নেতা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক হাবিবুর রহমান কামাল মোল্লা জানান, তালতলী উপজেলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৃষ্টি একটি উপজেলা।

তিনি মানবতার মা। তালতলীতে সব প্রশাসনিক অফিস প্রতিষ্ঠা হলেও উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবায় এখনও প্রতিষ্ঠা হয়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রধানমন্ত্রী আপনার তালতলীর মানুষ স্বাস্থ্যখাতে আজ অসহায়। আশা করি আপনি তালতলী বাসীর মুখের দিকে তাকিয়ে একটি পূর্নাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের ঘোষণা দিবেন।তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবী-উল-কবির জোমাদ্দার বলেন, দেশে মহামারি করোনায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এ মুহূর্তে তালতলীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় প্রায় আড়াই লাখ জনগন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তালতলীতে পূর্নাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানাবো। তালতলীতে ডেপুটেশনে থাকা ডা. মো. ফাইজুর রহমান জানান, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বরাদ্দ ওষুধ এবং আমতলী হাসপাতাল থেকে ধার করে আনা যে সামান্য ওষুধ পাই তা দিয়ে উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।

এখানে রোগী ভর্তির কোনো ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষাতো দুরের কথা ইনডোর চালু নেই। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (তালতলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা) ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, তালতলীতে পূর্নাঙ্গ হাসপাতাল ঘোষণা না করায় আমরা সেখানে লোকবল এবং ওষুধ সামগ্রী দিতে পারছি না। করোনার এই মুহূর্তে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে বরাদ্দ করা সামান্য ওষুধ তালতলীতে দিয়ে থাকি।

এই দিয়ে চলছে তালতলী উপজেলার আড়াইলক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, তালতলী উপজেলায় পূর্নাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই অনুমোদন পাব। অনুমোদন পাওয়া গেলে লোকবল নিয়োগ হবে তখন তালতলীতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আর কোনো সমস্যা থাকবে না।