নীলফামারীর হাটে-বাজারে গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে কচি ধান গাছ!

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীতে দফায় দফায় বন্যায় বেশিভাগ মাঠ-ঘাট ও আবাদি জমি দীর্ঘ সময় ধরে জলমগ্ন থাকায় এ জেলার কয়েক হাজার গবাদিপশু চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে গম ও ছোলার ভূষি, খৈ, চালের কুড়া, ভূট্টার আটাসহ সকল দানাদার পশুখাদ্যের মূল্য কৃষকের নাগালের বাইরে। এ অবস্থায় খামারি ও পশু মালিকরা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে কচি ধান গাছ।

অথচ অনেক পরিশ্রম, অর্থ ব্যয় ও যতœ করে তিলে তিলে পরিচর্যা করে গড়ে তোলা এ ধান ক্ষেত থেকে মাস খানেক পরে কৃষকের সোনালী ধান ঘরে তোলা সম্ভব হতো। আর দাম বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা আস্ত কচি ধানের গাছ কেটে আটি করে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছে।

জেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম ও হাট বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক পোন কাড়ি (৮০ টা খড়ের আটি) এখন ৭ থকে ৮ শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হতো ৯০ থেকে ১০০ টাকা। বর্তমান অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও মিলছে না খড়-কাড়ি। এ অবস্থায় গবাদিপশুর মালিক ও খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক গৃহস্থ গবাদিপশু বাঁচাতে মাঠের বাড়ন্ত রোপা-আমন ক্ষেতের কচি ধান গাছ কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন। আর যাদের ধানের জমি নেই তারা চড়া দামে কৃষকের কাছ থেকে ধান গাছ ক্রয় করছেন।

সদর উপজেলার রামগঞ্জ হাটে কৃষকরা কচি ধান গাছ আটি করে সারি সারি সাজিয়ে রেখেছেন। পশু মালিকরা ভির করে সে ধান গাছের আটি গুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন । ওই হাটে ধান গাছ বিক্রি করতে আসা একই উপজেলার সোনাখুলি ইউনিয়নের আক্কাস আলি নামের এক কৃষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আমন চারা লাগিয়েছি। কিন্তু ভারি বর্ষণে জলমগ্ন হয়েছে।

ফসল রক্ষা হবে কিনা সেই শংকায় এবং দাম বেশি পাওয়ায় জমির সবগুলো ধান গাছ কেটে হাটে নিয়ে এসেছি বিক্রির উদ্দেশ্যে। বেচা- বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। টুপামাড়ি ইউনিয়নের কৃষক লাল মিয়ার ছেলে চাঁদ মিয়া বলেন ছয়টি গরুর খাবারের চাহিদা মেটাতে বাজার থেকে রোপা আমন ক্ষেতের ধান গাছ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোহম্মদ মোনাক্কা আলী জানান, অধিকাংশ গবাদিপশুর মালিক মাঠ-ঘাট ও জমির আইলের ঘাস সংগ্রহ করে এবং বাড়ীতে সংরক্ষিত খড়-কাড়ি দিয়ে গবাদিপশু প্রতিপালন করে থাকেন।

কিন্তু এ বছর বোরো মৌসুমে একটানা বর্ষনে বোরো ক্ষেতের খড়-কাড়ি কোন কৃষকেই শুকাতে ও সংরক্ষণ করতে পারেননি। চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকেই দফায় দফায় ভারী বর্ষনের ফলে গৃহস্থ বাড়ীতে সংরক্ষিত খড়-কাড়ি পঁচে যায়। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারনে আমন ক্ষেতের আইল ও রাস্তা ঘাটের ধার থেকে ঘাস সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় গো-খাদ্যের বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি ভবিষ্যতে এ ধরণের সংকট মোকাবেলায় গবাদিপশুর মালিক ও খামারিদেরকে গো-খাদ্যের জন্য স্বল্প পরিসরে নিজেদের বাড়ী-ভিটায় কিংবা আবাদী এককানি জমিতে উচ্চফলনশীল নেপিয়ার, জার্মান ও পারা জাতীয় ঘাস চাষের পরামর্শদেন।