নগরকান্দায় গ্রাম্য দুদলের সংঘর্ষে আহত ৩০ মহিলা মাদ্রাসাসহ অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর- লুটপাট 


বিধান মন্ডল সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদি গ্রামে গ্রাম্য দু-দলের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদেরকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষকারীরা গোয়ালদি হাজেরাতুল উলুম মহিলা মাদ্রাসাসহ ওই গ্রামের ৫০ টিরও বেশি বাড়িঘর ভাংচুর করে ও লুটপাট চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষ চলাকালিন সময় ঊভয় পক্ষের ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, গতকাল শুক্রবার  বিকালে পুড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত  মান্নান ফকিরের ছেলে কামাল ফকিরের সমর্থক জলিল তালুকদারের সমর্থকদের সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়ার সমর্থক সায়েদ মোল্যার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ বাধে।

জানা যায়, পুড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এর ছেলে কামাল ফকিরের এর সমর্থক এনায়েত মোল্লার ছাগল বৃষ্টির কারনে গিয়ে ওঠে ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়ার সমর্থক আসাদ মোল্লার  ঘরে। ছাগল, ঘরের মেঝতে থাকা কলা খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে এই ছাগলে কলা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপি এই সংঘর্ষে উভয় দলের নারী- পুরূষসহ ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়। সংঘর্ষে মহিলা মাদ্রাসা, গরুর খামার, মুরগীর খামারসহ ৫০টিরও বেশি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায় সংঘর্ষকারীরা ।

কামাল ফকির সমর্থক হেলাল মোল্লা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়ার সমর্থকরা অহেতুক আমাদের সমর্থকদের উপর অতর্কিত  ভাবে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা মহিলা মাদ্রাসা ভাংচুর করেছে, গরুর খামার ও মানুষের বসতঘর ভাংচুর করে ক্ষ্যন্ত হয়নি। মসজিদের একজন ঈমান ঠেকাতে গেলে তাকে বেধড়ক ভাবে মারপিট করে।

আমাদের দলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান ফকিরের ছেলে কামাল ফকির বলেন, আমার সমর্থদের এই ব্যাপক ক্ষতির কারন হল পুলিশ। আমার সমর্থকদের বাধা দিয়ে মাঠের মধ্যে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় অন্য পক্ষ সুযোগ পেয়ে এই ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

অন্যদিকে সোবহান মিয়ার সমর্থক নগরকান্দা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আক্কাস মোল্লা বলেন, ছাগলে কলা খেয়েছে তাতে মরামারী কিছু হয়নি । কিন্তু কেউ যদি কারো অজান্তে ক্ষতি করে ফেলে তাতে দুঃখীত বললে মামলা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারা উল্টো আরো ক্ষমতা দেখিয়ে ঘটনাটা অন্যদিকে প্রবাহিত করেছে।

 নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সোহেল রানা বলেন,  খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ কারো পক্ষ নেয়নি আমাদের পুলিশের দুটি টিম দুদিকে গিয়ে উভয় দলের সকলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।