দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে তদন্ত প্রতিবেদনে: শারমিন আক্তার।

ছবি: বাঁয়ে ইউএনও শারমিন আক্তার, ডানে সংশ্লিষ্ট আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ। (ফাইল ছবি)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক দেয়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ৯২ টি ভিজিডি কার্ডের মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অনিয়ম এনে গেল ১৬ মে খবর প্রকাশিত হয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে,পরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদ আনসারী বিপ্লব সংবাদ সম্মেলন করে ভিজিডি কার্ড দুর্নীতি হয়নি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওইসব দুর্নীতির খবর সুনির্দিষ্ট করে প্রকাশ হয় আরও কিছু জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে।

প্রকাশিত খবরে আড়িয়া ইউনিয়নের ৩ জন ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড; কার্ড থেকেও বেশ কয়েকজনের চাল না পাওয়ার কথা বলা হয়। খবরে বলা হয়– এমন মানুষও পাওয়া গেছে,যিনি নিজেই জানেন না তিনি ভিজিডি কার্ডের সুবিধাভোগী।

প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ঈশরাত জাহান কে প্রধান করে তদন্ত করার ব্যবস্থা নেয় দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের আমলে নেয়া ৩টি অভিযোগের মধ্যে দু’টির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দুস্থ পরিবারের জন্য ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত প্রত্যেক কার্ডধারী প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল/গম পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ভিজিডি কার্ডের নিদের্শীকায় বলা হয়েছে দুঃস্থ পরিবার, পরিবারের প্রধান নারী, ভূমিহীন, বসতবাড়ির অবস্থা খারাপ দিনমজুরী করে কোনো রকম সংসার চালায় এমন পরিবারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেবার পর তালিকা চুড়ান্ত হয়ে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য দেয়া হয়। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নে চুড়ান্ত তালিকার ভিজিডি কার্ডধারীদের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।