দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০ জন, বসত বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট


বিধান মন্ডল সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্র্ষে পুলিশ-সহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতলে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় সংঘর্ষকারীরা একে অপরের প্রায় ২০ টি বসত ঘর ও ১৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের এএসপির গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে ও ওসির গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে গাড়িটি ক্ষতবিক্ষত করে। জানাগেছে, সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার ও  গ্রামে, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক গিয়াসউদ্দিনের ও মাঝারদিয়া  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের  সভাপতি মোঃ আফছার উদ্দিনের  গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে।

রবিবার সন্ধ্যায় দু’গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে সালথা থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরদিন সোমবার সকালে উভয় গ্রুপের মধ্যে আবার শুরু হয় সংঘর্ষ। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয় গ্রুপের প্রায় ২০ জন আহত হয় । থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

আহতদের নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা একে অপরের প্রায় ৩০ টি বসত বাড়ী এবং ১৫ টিরও বেশি দোকান ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক কাগদী বাজারের পল্টি মুরগী ব্যবসায়ী খায়ের এর সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আফসারউদ্দিনের সমর্থক পিকুল মাতুব্বরের ছেলের সাথে মুরগী জবাই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারি হয়।

এ খবর দুই দলের মাঝে ছড়িয়ে গেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র ঢাল, সর্কি, রামদা ছেনদা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধ্বংস লীলায় পরিনত হয়েছে কাগদী বাজার ও গ্রাম এলাকা এসময় প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। কাগদী বাজারের ব্যবসায়ী রেজাউল এন্টার প্রাইজের মালিক মোঃ রেজাউল হোসেন সর্বশান্ত হয়েছে।

তার সরকারী বিসিআইসি সারের ডিলারের মালামাল ও সরকারী রেশন অর্থাৎ ১০ টাকা কেজি দরে গোডাউন জাত চাউল ও লুটপাট হয়ে যায়। প্রায় রেজাউলের ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। অপর দিকে একই বাজারের সাহাদাতের সারের দোকান ও লুটপাট হয়। এদিকে গ্রামের মধ্যে মেঃ হেমায়েত হোসের এর পুরো বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট হয়ে যায়। এভাবে অনেক বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে এলাকা ধ্বংস লীলায় পরিনত করেছে।

থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ  বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এলাকা শান্ত করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শান্ত করা হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।