দফায় দফায় বন্যায় সর্বশান্ত মৎস্যচাষীরা নীলফামারীতে ভেসে গেছে চার কোটির টাকার মাছ

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: গত ১০ দিন ধরে টানা ভারি বর্ষণ এবং উজানের পানিতে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট চতুর্থ দফায় বন্যায় নীলফামারীর মৎস্যক্ষেত্র গুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। দফায় দফায় বন্যায় সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মৎসচাষিরা। জেলা মৎস্য বিভাগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সৃষ্ট অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১ হাজার ৪০৬ জন মৎস্যচাষী।

ক্ষতি হয়েছে ২৬৯ দশমিক ০৯ হেক্টর আয়তনের ১ হাজার ৫৫১ টি পুকুর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬২ দশমিক ০৬ হেক্টর আয়তনের ৫১৪ টি পুকুরের ৩৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ডিমলায় ৪০ দশমিব ০৬ হেক্টর আয়তনে ৫০টি পুকরের ১০ লাখ ২৫ হাজার, জলঢাকায় ৫ দশমিক ৩২ হেক্টর আয়তনের ৪৭ টি পুকুরের ২৮ লাখ ৯ হাজার, সৈয়দপুরে ১১০ হেক্টর আয়তনের ৫৫০টি পুকুরের ২ কোটি ২০ লাখ, ডোমারের ৪১ দশমিক ২ হেক্টর আয়তনের ৩৪৮ টি পুকুরের ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার, কিশোরগঞ্জে ৯ দশমিক ৩৮হেক্টর আয়তনের ৪১ টি পুকুরের ৬৭ লাখ ৬ হাজার টাকার মাছ বন্যায় ভেসে গেছে।

এ ব্যাপারে মৎসচাষি ও সৈয়দপুর উপজেলা মৎসজীবি লীগের সভাপতি জুয়েল সরকার বলেন, আকস্মিক বন্যায় মৎসাচাষিদের অপুরনীয় ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রনোদণ না পেলে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। জালঢাকার কৈমারি ইউনিয়নের আজিজার রহমান বলেন, চলতি বছর আগের বন্যাতেও আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গিয়েছিল। পরবর্তিতে আমি ব্যাংক থেকে দু’লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবারও পুকুরে পোনা ছেড়েছিলান কিন্তু বন্যায় আবারও সব মাছ ভেসে গেছে।

ডোমারের গয়াবাড়ি ইউনিয়নে মৎসচাষি হাকিম আলি বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। ভেবে ছিলাম মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবো এবং লাভের টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কিছু দিন ভালো ভাবে কাটাবো। কিন্তু মাছের সাথে সাথে বন্যা সব স্বপ্নও ভেসে নিয়ে গেছে। নীলফামারী জেলা মৎস্যা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, বন্যা পরবর্তী এবং পূর্ববর্তী করনীয় বিষয় নিয়ে চাষিদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ হতে হবে। তিনি আরও জানান, এসব ক্ষতিগ্রস্থ মৎস চাষিদের প্রণোদনার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।