ত্রানের চাল চুরির খবরে প্রতিবাদের ঝড়, কিন্তু প্রশাসন নিরব, বলেন এলাকাবাসী।

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি: সারা বাংলাদেশ যখন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সরকারী সহায়তার ত্রানের চাল চুরির খবরে দেশব্যাপি প্রতিবাদের ঝড়। তখনই আমাদের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর অঞ্চলের ৫নং সিরাতা ইউনিয়নের চর খরিচা বাজারস্ত মবিন এন্টারপ্রাইজ এর ডিলার ১১ বস্তা চাউল চুরির খবর ছাপা হয় পত্রিকার পাতায়।

মিডিয়া গুলোতে চোখ রাখলেই শুধু চাল চুরির ঘটনা, আর ক্ষুধার্থ মানুষের হাহাকার। ঠিক সে সময়, একটা কথা ভেবে মনে কিছুটা ভাল লেগেছিল, আমাদের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর অঞ্চলে জনপ্রতিনীধিগণ নিজস্ব তহবিল ও সরকারী ভাবে ত্রান বিতরণ করে আসছে। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি তাদের ব্যাক্তিগত টাকা খরচ করে অসহায় দুস্ত মানুষের মধ্যে ত্রান সমগ্রী বিতরন করছে।

বিতরণ করছে নগদ অর্থসহ খাদ্য দ্রব্য। সিরতা ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ডিলারেরা সচ্ছ ও অনিয়ম ব্যতি রেখে বিতরণ করছে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সরকারী সহায়তার ১০ টাকা কেজির চাউল। এসব ডিলারেরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষও তাদের সাধ্য মত ত্রান সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

কিন্তু এর মধ্যেই একটা খবর দেখে মনটা দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে গেল, লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেল। আর যাই হোক চর অঞ্চলের ডিলার ও জনপ্রতিনিধিগণ “করোনা ভাইরাসের সংকট চলাকালিন” কেউ অসহায়, দুস্ত ও গরিবের ত্রানের চাল চুরি করবে এমন টা কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি। তারপরও এমন খবর মনকে প্রতিবাদি করে তুলে, যে কুলাঙ্গারদের কারনে। লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনীধি ও মানুষজনের মান সম্মান, আমাদের ইউনিয়ন ও চর অঞ্চলের অহংকার নষ্ট হল।

দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্য নষ্ট হল এই চোরদের কারনে। এরকম অবস্থায় ময়মনসিংহ প্রশাসনের কাছে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সাধারণ জনগণ। সেই সাথে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক জনাব, মিজানুর রহমান (ডিসি) মহোদয় এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সিরতা ইউনিয়নের আপামর জনগণ। ময়মনসিংহের পুলিশ প্রশাসন এর মাথার মুকুট, বর্তমান সংকট কালিন পরিস্থিতিতে যিনি অসহায় হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে তুলে দিয়েছেন অন্য।

সেবা দিয়েছেন সততার সাথে ময়মনসিংহ জেলার জনগণকে। তিনি হলেন পুলিশ সুপার আহমারুজ্জামান। সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব, মোঃ আবু সাইদ সাহেব উনি সততার সাথে সচ্ছ ভাবে পরিচালনা করছেন ত্রান সামগ্রী। তারপরও সিরতা ইউনিয়নের ডিলারসহ কিছু অসাধু নেতাকর্মী চাউল চুরির অনিয়মে জরিত বলে জানা যায়। এতে চেয়ারম্যান এর কোন হাত নেই বলে এলাকাবাসী জানান।

গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত চাউল চুরির ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চর অঞ্চলের চর খরিচা বাজারে মবিন এন্টারপ্রাইজ এর ডিলার নুরুল ইসলাম মাস্টার ও তার ছেলে মঞ্জরুল ইসলাম স্বপন, খোরশেদুল আলম খোকন, জসিম উদ্দিন এর অনিয়মের কারনে ৫নং সিরতা ইউনিয়নের অসহায় হত দরিদ্র, দিনমজুরসহ জনগণের মাঝে প্রতিবাদের তুল পার দেখা দিয়েছে।

এতে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০টাকা কেজির চাউল চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক সহযোগিতা আমরা পাইনি। বরং সকলে বলবলি করছে এদের পিছনে রাঘব বোয়ালের হাত রয়েছে। এদের কিছুই হবে না।

নুরুল ইসলাম মাস্টারের ডিলার বাতিল, খোরশেদুল আলম খোকনের আওয়ামী যুবলীগের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান। কিন্তু চাউল চুরির ঘটনার আসল নায়ক ডিলার নুরুল ইসলাম মাস্টার ও তার ছেলে মঞ্জরুল ইসলাম স্বপন এর সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানী পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির চাকুরী কিভাবে থাকে এটা নিয়ে জনমনে তিব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।