তিস্তা নদীর দুই পাড় ঘিরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: তিস্তা নদীর দুই পাড় ঘিরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে জনা গেছে। চীনের আর্থিক সহযোগিতায় চলতি বছরই শুরু হতে পারে কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তার পাড় পর্যটন এলাকায় রূপ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্র্রকল্প যত দ্রুত শুরু করা যায় তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মহাপরিকল্পনার আওতায় রয়েছে তিস্তা নদীর দুই পাড়ে ২২০ কিলোমিটার উঁচু গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে নীলফামারী জেলার অংশে রয়েছে ৪০ কি:মি। বাঁধের দুই পাশে থাকবে রিভার ড্রাইভ রোড (চওড়া প্রস্থ মসৃণ রাস্তা)। যাতে পর্যটকরা লং ড্রাইভে যেতে পারেন। এছাড়া এই রাস্তা দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হবে। নদী পাড়ের দুই ধারে গড়ে তোলা হবে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট। তিস্তা নদীর বর্তমান নাব্য হ্রাস পেয়েছে। নদীর প্রশস্ততা কোথাও ৮ কিলোমিটার কোথাও আবার ১২ কিলোমিটার।

শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যায়। এই পরিকল্পনায় তিস্তা নদীর গভীরতা বাড়াতে মেজর খনন কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। ডালিয়ার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, চায়না পাওয়ার কোম্পানি দুই বছর ধরে তিস্তা পাড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করেছে। তারা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরেছে। পৃথক প্রজেক্ট আকারে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই কাজ বাস্তবায়ন করবে। খুব শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুহবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে এই জেলার চিত্র পাল্টে যাবে।

তিনি বলেন, ইকোনমিকজোন এবং অন্যান্য প্রকল্পে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিস্তা পাড়ের সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন প্রবন এলাকা ডিমলার টেপাখরিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, মানুষের দাবি ছিল স্থায়ী নদী ভাঙনরোধ। কিন্তু শুনেছি প্রধানমন্ত্রী বাঁধসহ তিস্তা পাড়ের মানুষকে সমৃদ্ধিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বন্যা ও নদীভাঙ্গন এই অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে এই অঞ্চলের মানুষ আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য এরকম স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করায়।