ডায়রিয়া ও ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুর ওষুধ নেই মণিরামপুর হাসপাতালে

মণিরামপুর হাসপাতালে
মণিরামপুর হাসপাতালে

যশোর প্রতিনিধিঃ গত সোমবার (২ মার্চ) রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছরের ছেলে অনু আয়াতকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের তৈমুর বিশ্বাস। তিনদিন ধরে ছেলেকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে থাকলেও তরল স্যালাইন ও নাপা সিরাপ ছাড়া কোন ওষুধ পাননি তিনি। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত তিনি ছেলের জন্য এক হাজার টাকার ওষুধ কিনেছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার কাশিপুর গ্রামের রনি হোসেন তার পাঁচ মাসের শিশু রেজওয়ানকে ঠান্ডা জনিত রোগে এই হাসপাতালে ভর্তি করান। ভর্তির সাথে সাথে সব ওষুধই কিনতে হয়েছে এই রোগীর জন্য। হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ পায়নি তারা। ৪০০ টাকার ওষুধ কেনার ঘন্টা দুয়েক পর রাউন্ডে আসেন অপর চিকিৎসক। তিনি পূর্বের সব ওষুধ বাদ দিয়ে আরও ৫-৭ প্রকারের ওষুধ লেখেন। স্বজনদের অভিযোগ, ডায়রিয়া ও ঠান্ডার রোগীর কোন ওষুধ এই হাসপাতালে নেই।

কয়েকমাস ধরে বহিঃবিভাগে রোগীদের জ¦রের নাপা ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের টয়লেটের অবস্থা নাজুক। বুধবার দুপুর পর্যন্ত মণিরামপুর হাসপাতালে দুটি ডায়রিয়া ও একটি নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল বলে জানা গেছে। তৈমুর জানান, কয়েকদিন ধরে ছেলেটার পাতলা পায়খানা। সোমবার রাতে তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। স্যালাইন ও নাপা সিরাপ ছাড়া সব ওষুধ কিনতে হয়েছে। তিনদিনে প্রায় এক হাজার টাকার ওষুধ কিনেছি। হাসপাতালে থাকা ছাড়া আর কোন লাভ হচ্ছে না।

তৈমুরের স্ত্রী নাসরিন অভিযোগ করেন, ওষুধতো পাচ্ছিই না। তাছাড়া হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্গেন্ধে ভিতরে ঢোকা যাচ্ছে না। তাছাড়া দুটো ট্যাব নষ্ট থাকায় পানি পড়ে ভিতরে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা হয়ে আছে। শিশু রেজওয়ানের দাদা আব্দুল ওহাব বলেন, আমার ছেলে গ্রামের একটা কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে কোন রকম সংসার চালায়। পোতা ছেলেটার কয়েকদিন ধরে ঠান্ডার সমস্যা। আজ (বুধবার) সকালে হাসপাতালে আনিছি। গ্যাস দেওয়া ছাড়া কিছুই পাইনি। ভর্তির সাথে সাথে ৪০০ টাকার ওষুধ কেনা লাইগিছে।

একটু পরে আরেক ডাক্তার এসে আগের সব বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ লিখেছে। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ডায়রিয়া ও ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুদের সব ওষুধ নেই। রোগীর অবস্থা বুঝে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, আগে সিভিল সার্জন অফিস থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওষুধ দেওয়া হতো।

এখন হাসপাতালগুলো চাহিদামত সরাসরি ঢাকা বা বগুড়া থেকে ওষুধ কিনে আনে। ডায়রিয়া ও ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুর সব ওষুধ হাসপাতালে থাকবে না, এটা ঠিক নয়। অভিযোগগুলো সিভিল সার্জন এই প্রতিবেদককে তাঁর দপ্তরে লিখিত আকারে পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মোঃ মেহেদী হাসান, মণিরামপুর, যশোর।