ঠিকমতো ফটোসেশনে অংশ নিতে না পারাই, চরম দুর্ব্যবহার করেন, মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান।


মো: জিল্লুর রহমান: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস, সরকারি ত্রাণ দেওয়ার সময়, ক্ষমতার অপব্যাবহার করে, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।

ঠিকমতো ফটোসেশনে অংশ নিতে না পারাই ত্রাণ নিতে যাওয়াদের অপরাধ। শনিবার ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপে ছবি তোলার জন্য ওই চেয়ারম্যানের এসব কীর্তিকলাপ দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মানুষজন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে তার শাস্তি দাবি করেন।

এদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে থাপ্পড়ও মেরেছেন তিনি। এক নারীকে পেছন দিক থেকে শাড়ির আঁচল টেনে ধরেছেন। এ ছাড়া অপর এক বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের দিন শুক্রবার এ উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন বিশ্বাস নিজের করা তালিকা অনুযায়ী দুস্থ অসহায় মানুষদের ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো করে তাদের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করেন। ওই সময় চেয়ারম্যানের মন মতো ফটোসেশনে অংশ নিতে না পারার অপরাধে এই দুস্থ অসহায় মানুষগুলোর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, কয়েকজন নারী-পুরুষ একে একে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের সামনে এসে তার হাতে স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে ছবি তোলার বিষয়টি বুঝতে না পেরে নিচে রাখা ত্রাণের বস্তা নিয়ে চলে যেতে উদ্যোত হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে চেয়ারম্যান তাদের ওপর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। থাপ্পড় মারা, গায়ে ধাক্কা দেয়া আর ত্রাণের বস্তা টেনে ধরে ফটোসেশনে অংশ নেয়ান তিনি।

 ওই সময় এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের মুখোমুখি হয়ে ত্রাণের বস্তা নিতে গেলে তিনি ওই ব্যক্তিকে ‘ওইদিকে ঘুর, ওইদিকে ঘুর’ (ক্যামেরার দিকে) বলতে থাকেন। তবে ‘ওইদিক ঘুরের’ ব্যাপারটি বুঝতে না পারায় চেয়ারম্যান তার গালে থাপ্পড় মারেন। তখন ত্রাণ গ্রহীতা ওই অসহায় ব্যক্তিটির মুখে থাকা মাস্ক খুলে নিচে পড়ে যায়। অপর এক বৃদ্ধ ছবি তোলার বিষয়ে না বুঝে ত্রাণের বস্তা নিয়ে চলে আসার সময় চেয়ারম্যান তার গায়ে হাত তোলেন। পরে পুনরায় তার হাতে ত্রাণের বস্তাটি তুলে দিয়ে ফটোসেশন করেন চেয়ারম্যান।

এক নারী একইভাবে নিচে রাখা ত্রাণের বস্তা তুলে নিয়ে চেয়ারম্যানের সামনে দিয়ে চলে আসতে উদ্যোত হলে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পেছন দিক থেকে তার শাড়ির আঁচল টেনে ধরেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে ছেড়ে দিতে বলায় ছেড়ে দেন তিনি।

এ ভাবে ত্রাণ নিতে যাওয়া বিভিন্ন বয়সী অসহায় নারী-পুরুষদের সাথে বারবার দুর্ব্যবহার করে নিজের কাঙ্খিত ছবি তোলেন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস। এ ছাড়া অপর এক বৃদ্ধ ত্রাণ নিতে গেলে তার কাছে স্লিপ না থাকায় ধাক্কা দিয়ে ওই বৃদ্ধকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন চেয়ারম্যান।

এদিকে শনিবার ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের ত্রাণ বিতরণের নামে ফটোসেশনের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাোযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় গণমানুষের প্রচণ্ড ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। ওঠে আসে নানা তীর্যক মন্তব্য। ক্ষুব্ধ মানুষজন চরম ধিক্কার জানিয়ে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

ত্রাণ বিতরণের সময় অসহায় মানুষের সাথে অশোভন আচরণের ব্যাপারে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এতদূর গড়াবে তা বুঝতে পারিনি। এ জন্য আমি দুঃখিত।’