জানাজায় জনতার ঢল থামাতে না পারায় ওসি প্রত্যাহার, ও ছয়টি গ্রাম লকডাউন।

মোঃ আশিকুর রহমান রনি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরো জেলা লকডাউন থাকা সত্বেও জেলার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় জনতার ঢল থামাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটোকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযোগ করতে বলা হয়।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার খেলাফত মজলিশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান, জানাযায় জনতার ঢল ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। চেয়েছিলাম জানাযায় যেন লোক সমাগম কম হয়।

কিন্তু ওনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এতটাই ছিল, যার কারণে হাজার-হাজার লোকের সমাগম হয়ে যায়। উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে সরাইল উপজেলার বেড়তলায় অবস্থিত জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্ধসঢ়;‌উএনও) এএসএম মোসা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, সরাইলের ছয়টি গ্রামের বেশিরভাগ লোক অংশ গ্রহণ করেছিল বলে আমাদের কাছে খবর আছে। তাই ছয়টি গ্রাম বেড়তলা, বলিবাড়ী, সিতাহরন, শান্তিনগর, মৈশার, টিঘর গ্রাম লকডাউন করা হয়। আগামীকাল থেকে এই গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রামে যেতে পারবেন না।

বাজারে যেতে পারবেন না। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পুলিশকে সহযোগিতা করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘জেলার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন বেশি অংশ নিয়েছে ওই জানাযায়। ওই সব গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। যেন ওই গ্রামগুলোর লোকজন ঘর থেকে না বের হতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ছোট পরিসরে জানাযা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানান, উনারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) আমাদের বলেছিলেন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেটা তারা কেন করেননি কেন? তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।