জাতির জনক এই মানুষটিই মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেছিলেন

মো: ইব্রাহিম হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টার: লুঙ্গি পরা একটা মানুষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দিয়ে এবং আদায়ও করেছিলো বাস্তবতা আর কল্পনার প্রার্থক্য কি লেখে বুজানো যাবে। ইতিহাসতো না দেখাকেই বলে। ৬ দফা আজ ইতিহাসের পাতায়, অনেকের কাছে লুঙ্গি পরা মুজিব জাতির পিতার আসনে। ৬৬ টির ৬ দফা বাস্তবায়ন একটি ধারী কমার সাথেও আপোষ করে নাই পাকিস্তান শাসক গুষ্ঠির সাথে।

এখন রাজনৈতিক ভাষা আর কথার কোনো মাপ নাই, সকাল-বিকাল পরিবর্তন হয়, কি কথা বলতে হবে, বাস্তবায়ন করতে পারুক না পারুল, জ্বালাও গাড়ী। ৬ দফার একটি কথা বায়স্তবায়নে ৭১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, দাবী একটাই বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ এই লুঙ্গি পরা মানুষটাই বাস্তবায়ন করেছে।

মানুষটার ৩২ নম্বর বাড়ীর পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময়, দলিয় কর্মসুচি পালনের সময় ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি লেকের পারে বসে এক নজর সেই বিহ্মাত বেলকনির দিকে চোখ, লুঙ্গি পরা মুজিব পাইব হাতে দারিয়ে আছে, মনে হয় আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কি যেনো বলছে। পরহ্মনেরই স্বপ্ন ভঙ্গ। মুজিবকে আমরা যারা লুঙ্গি পরিহিত অবস্থা দেখার সুভাগ্য হয়েছে, তাদের কাছে কল্পনা নয়। একটি আঙুলের ইশারায় বাঙালি জাতির পথের ও চলার নির্দেশনার মানুষটি লুঙ্গি পরে, অতি সাধারণ জীবন যাপন করতে পারে, আজকের প্রযর্ম্মের কাছে কল্পনার হতে পারে।

হাজার বছর পরে বাঙালী জাতি কি ভাবে গ্রহন ও বরন করবে জানি না, তবে আমার মনের মাঝে লুঙ্গিপরা মুজিবের প্রতিছবি, বেলকনির উপর দাড়িয়ে দর্শনার্থিদের দর্শন, মিছিলের অভিবাদন গ্রহণ, জাতির উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনা, পাইব হাতে চিরাচরিত বাচনভঙ্গি লেখে কি আর বুঝানো যাবে। কি ছিলো জাতির জনকের প্রতিছবিতে, কি যাদুর বলে মানুষকে বশিকরন, লোভলালশাহীন জীবন, ত্যাগের মহিমান্বিত হয়ে উঠতেন মানুষ, আমি জানিনা।

৩২ নম্বব লেকের পারে বসে বাঙালির তির্থস্থান পিতার বাড়ীর বেলকনির দিকে তাকালে, যেখানে মুজিবকে দেখেছি লুঙ্গিপরা, হারিয়ে যাই এখন কার রাজনীতি থেকে। ফুটপাত দখলে নেওয়া, খাদ্য সহায়তা থেকে চাল, ডাল চুরি করা, টেন্ডার বাজি, ক্যাসিনো, জ্বালাও পোড়াও, এর নাম কি রাজনীতি? এ জন্য কি ৬ দফা? স্বাধীনতা, ৩০ লহ্ম মানুষের জীবন, ২ লহ্ম ৭৬ হাজার মা-বোনের সম্ভমহানী? আমি আর আমার মাঝে থাকতে পারি না।

করোনার একাকৃত থেকে কিছু সময়ের জন্য ৩২ নম্বব লেকের পারে গিয়ে বসেছিলাম, আগেই বুজেছিলাম করোনার জন্য ফেরিওয়ালা নাই, চিনা বাদাম সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। দুটি বাদাম খাওয়ার পরে আর খেতে পারলাম না, চোখের পানি আটকাতে পারছিলাম না। ৩২ নম্বব আগের চেয়ে অনেক সুন্দর সাজসজ্জা হয়েছে। আগের মত প্রানচাঞ্চল্য নাই। বেলকনিতে মজিব নাই, বাড়ীর পেছনে কবুত, গরু, হাস মুরগী, বেগম মুজিবে চিল্লাচিল্লি, পাকের জন্য হাঁকডাক, মিছিলের পর মিছিল, জয় বাংলার শ্লোগান। নৌকার জয়, নেতা কর্মিদের উদ্দীপনা কি আর লেখে বুঝানো যাবে, নতুন প্রজম্মকে অনুভব করতে হবে।

৬ দফার একটি দফার সাথে যদি আপোষ করা হতো, মুজিব যদি প্রধান মন্ত্রীত্বে লোভ সংবরন করতে না পারতেন? বাঙালী জাতি কি স্বাধীনতার প্রয়োজনিয়তা বুঝতেন? না বুঝানো যেতো? ফাঁসির মঞ্চ থেকেও মুজিবের কণ্ঠ প্রতিরোধ করতে পারে নাই, কবর খুড়েও যাকে দমাতে পারে নাই। সেই মুজিবের লাশটা পরে ছিলো ৩২ নম্বর, এইতো এখানে শিড়ির উপর। নিজেকে সামলাতে পারছি না।

এ সবি আমার দেখা ১৯৬৩ সাল থেকেই দেখছি, রায়ের বাজার আর ধানমন্ডির একটা মিলন মেলা ছিলো, বাজার করতে রায়ের বাজার, ঘুড়ে বেড়াতে, খেলাধুলায় ধানমন্ডি। আজ কেনো মনে হয় অজানার মত। এইতো এখান থেকে ডিলছুড়ে আম পেড়েছিলাম মুজিবের বাড়ী থেকে। বাড়ীটা কিন্তু সে স্থানেই আছে। নাই শুধু কোলাহল, ফেরিওয়ালাদের হাকডাক, চিৎকার চেচামেচি, অভাব অভিযোগের লাইন, সমাধানে আশ্বাস। এই বাড়ীতেই একজন প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি থাকতেন, না দেখা মানুষের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। একজন রাষ্ট্রপতি লুঙ্গি পড়ে দর্শনার্থীদের সব সমস্যার কথা শুনতেন।

৬ দফা নিয়ে অনেকেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, ৬ দফার বিরোধিতা করেছেন, আবার ৬ দফার জন্য লড়াইও করেছেন। নিজেদের ভুল বুঝেছেন। হয়তো মনের মাঝে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে লুঙ্গি পড়া একজন মানুষের বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা, মেনে নিতে পারেন নাই। হয়তো বিশ্বাস করতে পারেন নাই এই ৬ দফার মাঝে স্বাধীনতা লুকিয়ে আছে, লুকিয়ে রেখেছে মজিব। আজ সব প্রশ্নের উত্তর জাতির সামনে। সামনে নাই শুধু মজিব। আছে বাঙালী জাতির পিতার আসনে। এ আসন থেকে জনক কে আর নামাতে পারবেন না বলেই প্রতিহিংসার রাজনীতি এখনো বিদ্যমান। লেখকঃ বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব ও রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামলী লীগের সভাপতি জনাব রবিউল আলম।