ছেলের লেখাপড়াসহ পিতা’র ভিক্ষায় জীবন সংসার।

মোঃ বেল্লাল হোসেন, দশমিনা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর জেলার দশমিনা পিতার ভিক্ষাবৃত্তিতে পুত্রের লেখাপড়াসহ তিন জনের জীবন সংসার চালায় অতিকষ্টে। অন্যের সাথে কাজ করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশাকে এখন বেছে নিয়েছে সে। বয়সের ভারে নুইয়ে পরেও তবুও ভিক্ষা করছেন।

উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের মৃত্যু ইসমাইল খাঁ’র ছেলে মোঃ আলতাব খাঁ(৬৫)। শনিবার ভিক্ষারত অবস্থায় দেখা মিলে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী বাজারে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা ছাড়া কোন উপায় নাই আমার বাবার কালের বাড়িভিটা ছাড়া জমাজমি পাইনায়। এ বয়সে ২মেয়ে বিয়ে দেওয়া ১ছেলে আবু বক্করকে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পড়ানো অনেক টাকার দরকার কোথায় পাবো। ছেলে পাস করে চাকরিতে গেলে ভিক্ষা করা লাগবেনা।

এভাবেই কথাগুলো বললেন, বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ে তিনি। যে কিনা কয়েক বছর পুর্বে অন্যের সাথে কাজ করে দু’মেয়েকে বিয়ে, একছেলের লেখাপড়া আর সংসার চালিয়েছেন। সে ঠিকমত হাটতেও পারেনা এখন। চোখেও দেখে কম। শরীরের চামড়া শুকিয়ে গেছে। হাড্ডিগুলোও বাহির থেকে গণনা করা যায়। চোখের পাতায় ক্লান্তির পরশ আচ্ছন্ন করে থাকলেও জীবন যুদ্ধে অবিচল ছিলেন তিনি। হাড় মানতে শিখেননি কখনো।

আট দশটা যুবকের ন্যায় প্রাণচঞ্চল ব্যক্তি ছিলেন। জীবন সংগ্রামে কর্মঠ পুরুষ ছিলেন। যার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন ছিলো অন্যের সাথে কাজ করা। কিন্তু অবশেষে বিধির লীলায় হার মানতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যের সাথে কাজ করার জীবন ছেড়ে হয়েছেন এখন ভিক্ষুক। বৃদ্ধ আলতাব খাঁ বলেন, ভিক্ষা করে কোনদিন ৪সের চাউল , কোনদিন ২সের চাউল, কোনদিন পাইনা। দুডামাইয়া একটা পুলা আছে,মাইয়াগোরে বিয়া দিয়া দিছি। আর পোলাডা কালাইয়া মোল্লগো কলেজে আইয়ে পড়ে।

আমার ভিক্ষায় চলছে লেহা পড়ার খরছ আর আমাগো খাওয়া পড়া। পোলার চাকরি হইলে আমার আর ভিক্ষা করা লাগবেনা এহন আমি ভিক্ষা করি। জমিজামা নাই, বাড়িতে ৪কড়া জায়গা আছে। আগে আমি দুরে দুরে যাইয়া মানুষের লগে কাজ করতাম এহনতো আর পারি না। কি আর করমু, খাওনতো লাগবো। তাই ভিক্ষা করি।

শুনেছি সরহার নাহি আমাগরে পুনরবাহন (পুনর্বাসন) কইরা দেবে। কবে দেবে আমারে? তিনি আরও বলেন, বাড়িতে আমি আর আমনের চাচী আর পোলা থাহে। আমনের চাচীই রাইন্ধা দেয়। এভাবেই বর্ণনা দেন পয়সাট্রি
বছরের বৃদ্ধ। তিনি সকলের সহযোগিতা চান।