চরফ্যাসনে সাব্বির-২ লঞ্চটির সুপারভাইজার এবং কেরানীর প্রতারণার শিকার যাত্রীরা।

ভোলা (দক্ষিন) প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞায় যাত্রীবাহী লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার ভোলার চরফ্যাসনের ঘোষের হাট ঘাট থেকে (২৬মে) মঙ্গলবার যাত্রী নিয়ে সাব্বির-২ নামের যাত্রীবাহী জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া উত্তোলনের পর প্রতারণার ঘটনায় বিক্ষুব্দ যাত্রীরা জাহাজের মাষ্টার (চালক) সুমনকে লাঞ্চিত করেছে ।

দুপুরের পর দেউলা এলাকায় নদীর মধ্যে জাহাজে এ ঘটনা ঘটে। লঞ্চের মাষ্টার সুমন যাত্রীদের সঙ্গে জাহাজের সুপারভাইজার এবং কেরানীর প্রতারণা এবং তার উপর হামলার সত্যতা স্বিকার করেছেন। জাহাজের যাত্রী নয়ন ও আহাম্মদ আলী খলিপা জানান, স্টাপরা জাহাজ ছাড়ার অনুমতি পাওয়া গেছে জানিয়ে যাত্রী প্রতি একহাজার টাকা ভাড়া উত্তোলন পূর্বক ঘোষের হাট ঘাট থেকে ১৯১জন যাত্রী উঠান।

সকাল সাড়ে ১০টায় জাহাজটি ঘোষেরহাট ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপুরের পর দেউলা নামক স্থানে পৌছলে প্রথমে ইঞ্জিনের সমস্যা এবং পরে ঢাকা যাওয়ার অনুমতি বাতিল হয়েছে জানিয়ে জাহাজটি ঘোষের হাট ঘাটের উদ্দেশ্যে ফেরা কালে যাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত ভাড়ার টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু দেবীর চর নামক স্থানে এসে সেখানে যাত্রী নামানোর সময় যাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত ভাড়ার সব টাকা নিয়ে কৌশলে জাহাজ থেকে নেমে যান জাহাজের সুপার ভাইজার হাফিজুল এবং কেরানী মুকুল।

জাহাজের মাস্টার (চালক) সুমন মোবাইল ফোনে জানান, সুপার ভাইজারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি জাহাজ চালিয়েছি। তিনি আমাকে বলেছেন জাহাজ চালানোর অনুমতি পাওয়া গেছে। জাহাজ মালিক মো.রাসেল মোবাইল ফোনে বলেন, ষ্টাপরা আমাকে না জানিয়ে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়েছিল, আমি জানার পর জাহাজটি ঘাটে ফিরিয়ে নিয়েছি। যাত্রীদের টাকা নিয়ে দুইজন ষ্টাপ পালিয়েছে।

এটাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি জানান,যাত্রীদের টাকা বুধবার সকালে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হবে। এবিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মো.আলমগীর হাওলাদার জানান, জাহাজ মালিক আমাকে ফোনে জানিয়েছে বুধবার সকালে যাত্রীদের নিকট থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেবেন। তাই জাহাজের ১৯১জন যাত্রীকে বুধবার সকালে আসতে বলেছি।