গ্লোবাল ইউথ অ্যাম্বাসেডর’ হলেন ঈশা খান

ছবি: ঈশা খান।
ছবি: ঈশা খান।

কুষ্টিয়া: গ্লোবাল ইউথ অ্যাম্বাসেডর’ ঈশা খান দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দেয়ারওয়ার্ল্ডের ‘গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঈশা খান। একই সঙ্গে তাকে ‘দেয়ারওয়ার্ল্ড’- এর আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে ঈশা খান প্রথমবার দেয়ারওয়ার্ল্ড এর ‘গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তার মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

তবে মেয়াদ শেষ হবার আগেই, অফিশিয়ালভাবেই মেইলের মাধ্যমে তাকে পুনরায় ‘গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর’- এর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগে ঈশা খান ২০১৭ সালে ১৩ অক্টোবর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড কমিউনিটি ট্রান্সফরমেশন ক্যাটাগরিতে ‘সিওএফ ন্যাশনাল ইন্সপিরেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ পান। এছাড়া ঈশা খান একজন ব্র্যান্ড মার্কেটিং অ্যাকটিভিস্ট। ২০১০ সাল থেকেই তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইনে চর্চা শুরু করেন। এরপর ২০১২ সাল থেকে এগোতে থাকেন ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে।

গড়ে তুলেছেন নিজের ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ‘আইডিয়াগো করপোরেশনস বাংলাদেশ’। এছাড়াও তিনি উপস্থাপনা শুরু করেন ২০০৮ সাল থেকে। ভালো গানও গাইতে পারেন তিনি। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর আর সবার মতো তিনিও ’১২.১২.১২’ তারিখটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই দিনেই কয়েকজনকে সাথে নিয়ে অল্প সংখ্যক কিছু টাকা জোগাড় করে তার পুরোটা দিয়েই একটি পরিবারকে সহযোগিতা করেন। তখন থেকেই ঈশা খান চিন্তা করেন একটি সংগঠন করার। এরপরে চিন্তা-ভাবনা করে একটি সংগঠন তৈরি করেন আর নাম দেন ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’।

নিজের গড়া প্রথম সংগঠন সম্পর্কে ঈশা খান বলেন, “তখনও আমি বুঝিনি যে এই ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’ আমার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারে”। তার ভাষ্যমতে— ‘আমার কাছে এটা নিছক একটা চেষ্টা ছিল মাত্র এবং আমি জানতামও না এটার রেজাল্ট কী হবে। আমি নিজে আনন্দ পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, যা করেছি ভালো কিছুই করেছি।’

এই ‘ইউথ নেটওয়ার্ক’-এর কার্যক্রমের পরিধির ওপর ভিত্তি করেই তিনি পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক মহলগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালেই ঈশা খান প্রথম দেয়ারওয়ার্ল্ডের ‘গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে। তখন থেকেই ‘ইউথ নেটওয়ার্ককে’ নিয়ে খুব নীরবেই কাজ করে যান। এর উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন— “আমি ‘সাসটেনেবিলিটির’ চাইতে ‘ইফেকটিভ’ শব্দটা বেশি পছন্দ করি। একেবারে তারছেঁড়া আইডিয়াগুলোকে দৃশ্যমান করতে চেয়েছি, এখনো তাই চাই।

কাউকে সাময়িকভাবে খুশি করা কিংবা সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে চাই না। বরং যে উদ্যোগটা নেব, তাতে যেন কারোর লাইফটাইম কোনো একটা চেঞ্জ আসে, এই ব্যবস্থা করতে চাই। আবার ব্যাপারটা এমন নয় যে, কারোর সারাজীবনের ভার আমি নেব। তাই উদ্যোগগুলো এমন হবে যেন একটা পদক্ষেপের মাধ্যমেই কারোর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হবার দ্বার উন্মোচিত হবে কিন্তু সেটা ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগিতা ছাড়াই।

এজন্য শুধু পদক্ষেপ না, পদক্ষেপের পেছনেও মাথা খাঁটিয়ে খাঁটিয়ে দারুণ আইডিয়া বের করতে হয়। এটাই আমার স্বপ্ন, ইচ্ছে, ভালোলাগা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।” ঈশা খানের বাড়ি লালন সাঁইর দেশ কুষ্টিয়ায়। তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে ২০১১ সালে এসএসসি এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজেই (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) গণিত বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

একই সাথে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল’ থেকে ডিসটেন্স লার্নিং-এ শিক্ষা গ্রহণ করছেন। ২০০৮ থেকে তার অর্গানাইজেশন ক্যারিয়ার শুরু হয় ‘মাস মিডিয়া কমিউনিকেশনস (এমএমসি)’-এর মাধ্যমে। এরপর কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন ‘কালপুরুষ’-এর সাথে যুক্ত হন। প্রায় একই সময়ে যুক্ত হন ‘কুষ্টিয়া ফিল্ম সোসাইটিতে’। এভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলতে থাকে তার সংগঠন।