গাংনীর রবিউল ইসলাম মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল অপারেশনে আবারও মৃত্যু ।

গাংনীতে রবিউল ইসলাম মেমোরিয়াল হাসপাতালের সােইনবোড।
গাংনীতে রবিউল ইসলাম মেমোরিয়াল হাসপাতালের  সাইনবোড।

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনীতে রবিউল ইসলাম মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল অপারেশনে অবশেষে নাসিরা খাতুন নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে ক্লিনিক মালিক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের টাকা পয়সা দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানাবে না।

ক্লিনিক মালিক সাংবাদিকদের বলেন রোগীদের যেহেতু ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়েছে সেহেতু তাদের অভিযোগ করার কথা নয়। এর আগে রবিউল মেমোরিয়াল হামপাতালে অপারেশনের কারণে রোগীর অবস্থার অবনতী হলে রোগীর স্বজনরা কুষ্টিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারাও একই কথা বলেন।

রোগীর অবস্থার এমন অবনতী দেখে রোগীর স্বজনরা গাংনীর রবিউল মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করারও কথা বলেন। পরে রোগীর স্বজনদেরকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলে স্বজনরা মামলার পথ থেকে ফিরে আসেন বলে জানা যায়। এদিকে রোগীর এক স্বজন জানান, রবিউল মেমোরিয়ালের মালিক তরিকুল ইসলাম নিহত নাসিরা খাতুনের ছেলেকে টাকা দিয়েছে বলে জানান।

রোগীর স্বজনদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তা অকপটে স্বীকার করেন হাসপাতাল মালিক তরিকুল ইসলাম। প্রথম দিন এনিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষওরোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।প্রথম দিন রোগীর স্বজনরা সাংবাদিকদের কাছে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ভুল অপারেশনে যদি রোগী মারা যায় তাহলে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দ্বায়ের করবে।

কিন্তু রোগীর মৃত্যুর পার আজ জানতে চাইলে তারা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি। এদিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বিডি দাস কোন সার্জিক্যাল অভিজ্ঞতা না থাকা শর্তেও অপারেশন করতে পারেন কিনা এ নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও অপারেশন টেবিলে কোন এ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার ছিলনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ বিডি দাস সাংবাদিকদের বলেন এ্যনেস্থেসিয়া না থাকায় আমি নিজেই রোগীর অপারেশন করেছি। তাছাড়া রোগীর স্বজনদের মধ্যে থেকে চারজনের মৃত্যুঝৃকির স্বাক্ষর নিয়েই অপারেশন করা হয়েছে। এতে রোগীর কিছু হলে আমাদের কিছু করার নেই কারণ তাদের সম্মতিতেই অপারেশন করা হয়েছে।

মৃত নাসিরার এক মেয়ে জানান, মায়ের অপারেশনের একদিন পর অবস্থার অবনতি হলে বার বার ডাক্তারকে আসতে বললেও সেখানকার কোন ডাক্তার না এসে শুধু মাত্র কর্তব্যরত নার্স দিয়ে যে ওষুধ লিখা ছিল সেই ওষুধই সেবন করাতে। অবশেষে কর্তব্যরত নার্স তাদেরকে যখন জানায় রোগী বাঁচাতে হলে অন্যত্র নিয়ে যাও। তখন আমরা আমাদের রোগী নিয়ে কুষ্টিয়া পরে রাজশাহী নিয়ে আসি।

অবশ্য স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন তারা যদি ভুল চিকিৎসা না করবে তাহলে টাকা দেবে কেন গাংনীর রবিউল মেমোরিয়াল হাসপাতাল তার নিজেস্ব দালাল নিয়োগ করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিভিন্ন রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে আসার প্রমাণ আছে। এছাড়াও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

এর আগেও একই উপজেলার রামনগর গ্রামের এক গৃহবধুকে প্রাণ দিতে হয়েছে রবিউল মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল অপারেশনের ফলে। সিভিল সার্জন ডাঃ শামিমা নাজনিন জানান, আসলে কেমন অনিয়ম হয়েছে না দেখে বলা সম্ভব নয়। তবে এ্যনেস্থেসিয়া ছাড়াই অপারেশন করা নিয়ম বহির্ভুত। তবে তার এ্যনেস্থেসিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে কিনা সেটাও একটা বিষয়।

অভিজ্ঞতা না থাকলে এনেস্থেসিয়া করাটা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন আমি এখন ঢাকাতে ট্রেনিং এ আছি এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বলা যাবে। দালাল দিয়ে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রবিউল মেমোরিয়াল হাসপাতাল মালিক তরিকুল ইসলামকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অর্থদন্ড সহ তার মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়। তারপরও দালাল দিয়ে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া বন্ধ হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।