কৃষক লীগের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

১০ জানুয়ারি ২০২১ ইং রবিবার বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগের উদ্যোগে সম্মানিত সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ এর নেতৃত্বে সকাল ১০:০০ টায় ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পূষ্পস্তবক অর্পন করা হয় এবং সকাল ৯:০০ টায় মেরুল বাড্ডা ডি.আই.টি প্রজেক্ট মাঠে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অতঃপর, ডি.আই.টি প্রজেক্ট মাঠ ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সম্মানিত সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ। সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম।

প্রধান অতিথির ভাষণে এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন যে, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন ও পশ্চিম পাকিস্তানে লায়ালপুর কারাগারে প্রায় ৯ মাস বন্দি ছিলেন। ৭ মার্চ তিনি রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা ও দিক নির্দেশনা প্রদান করেন, যা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর দেশকে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেন। বঙ্গবন্ধু তখনও পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি।

ভারত সহ অনেক আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে। এহেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ৯ জানুয়ারী লন্ডন ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করে আসছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন যে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন ও বিধ্বস্ত দেশকে পূনর্গঠনের কাজে হাত দেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদে সংবিধান উপস্থাপন করেন ও অনুমোদন লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদে তার ভাষণে বলেন যে, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ কিন্তু রক্ষা করা কঠিন”।

তিনি বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতাকারী রাজাকার, আলবদর, আল-শামস সহ পরাজিত শক্তি ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা আমাদের স্বাধীনতা নস্যাত করতে চায়। তিনি দেশবাসীদের সকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ক্ষেতে খামারে কলে কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। জাতি হিসেবে আমাদের দূর্ভাগ্য যে, ’৭১ এর পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এদেশীয় দোসরদের সহযোগীতায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অপরাহ্নে বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালী জাতী তখনো স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করতে পারে নাই। ১৯৯২ সালের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে বাঙালীর পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর সাহসী বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারতীয় মিত্র বাহিনী মাত্র ৩ মাসের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত চলে যায়।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষক লীগের সম্মানিত সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে, সূর্যের আলোকে চাঁদ যেমন আলোকিত হয়ে এই বিশ্ব ভ্রমান্ডে জোয়ার ভাটা সৃষ্টি করে, সমুদ্রের গর্জন তৈরি করে, তেমনি বঙ্গবন্ধুর মত সূর্যের আলোকে আলোকিত হয়ে তারই রক্তের এবং আদর্শের যোগ্য উত্তরাধিকার আমাদের গর্বের প্রধানমন্ত্রী কৃষকরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত সোনার বাংলা গঠনে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষক লীগ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সপথ নিতে চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে, বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে ধারণ করে আমাদের গর্বের প্রধানমন্ত্রী কৃষকরতœ শেখ হাসিনার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কৃষক লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী গ্রামে গ্রামে কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখব, মুক্তিযুদ্ধের চেতানাকে বাঁচিয়ে রাখব।

আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী কৃষকরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা বারবার প্রধানমন্ত্রী করব। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হোসনে আরা বেগম এমপি, আলহাজ্জ মোস্তফা কামাল চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, মোঃ আবুল হোসেন, কৃষিবিদ শাখাওয়াত হোসেন সুইট, আলহাজ্জ মাকসুদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, শামীমা শাহরিয়ার এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. গাজী জসিম উদ্দিন, কৃষিবিদ ড. হাবিবুর রহমান মোল্লা, নূরে আলম সিদ্দিকী হক, হিজবুল বাহার রানা, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্জ মোঃ নাজির মিয়া, দপ্তর স¤,úাদক রেজাউল করিম রেজা, সম্পাদক মন্ডলির সদস্য এ্যাড. শামীমা সুলতানা, কৃষিবিদ শামসুদ্দিন আল আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ্জ আব্দুস সালম বাবু।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রেজাউল করিম হিরন, একেএম আজম খান, সৈয়দ সাগিরুজ্জামান শাকীক, লায়ন মোঃ আহসান হাবিব, ডা. মজিবুর রহমান মিয়াজী, এফতেখার হোসেন দুলু, এ্যাড. উম্মে হাবিবা, কামরুল ইসলাম লিটু, মোশারফ হোসেন আলমগীর, আলহাজ্জ মোঃ জাকিউদ্দিন রিন্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল রব খান, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম খান, মোঃ আমজাদ হোসেন, মহসিন করিম, আহসান হাবিব প্রমূখ। ধন্যবাদান্তে-