কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ,বিয়ে হচ্ছে নতুন কৌশলে।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

জিল্লুর রহমান: কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন, বাল্যবিবাহ সমাজ ও জাতির অভিশাপ স্বরূপ যা সমাজে চলছে রেল গতিতে। কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না এই গাড়ি।

রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে  বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে আইন কৌশল ও তার পরেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলেই যাচ্ছে বাল্যবিবাহ, নষ্ট হচ্ছে হাজার কিশোরীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও জীবন। বিভিন্ন ভাবে রাষ্ট্রীয় চাপের কারণে প্রকাশ্য বাল্যবিবাহ কিছুটা বন্ধ হলেও চোখের আড়ালে রাতের আঁধারে কিছু অসাধু মহল ও প্রভাবশালী নেতা তাদের কারণে হচ্ছে বাল্যবিবাহ।

নষ্ট করে দিচ্ছে হাজারো নাবালিকা কিশোরী জীবন, যেন  সচেতন মহলের কিছুই করার নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে মেয়েদের বিবাহের বয়স সীমা ১৮ বছর হলেও ১২ কিংবা ১৩ বছরের তাদের ইচ্ছার বাইরে দেওয়া হচ্ছে বিবাহ কিন্তু সরকারি রাষ্ট্রীয় বিধি বিধান নিষেধ অমান্য করে কিভাবে সংগঠিত হচ্ছে এই বাল্যবিবাহ?

এরি ধারাবাহিকতায় এলাকার প্রায় প্রতিটি জায়গায় আমরা নিতে থাকি খোঁজ খবর, কিন্তু কিছুতেই যেন খোঁজ করে উঠতে পারছিলাম না, যেন অসুভ কোন শক্তি এসে বিয়ে দিয়ে চলে যায়, যেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রি করার জন্য লাগে না কাজী লাগে না কবুল বলে দোয়া করার জন্য কোন ইমাম।

তাহলে কিভাবে সংগঠিত হয় এই বিয়ে? বিভিন্ন কাজীর সাথে কথা হলো তারা বলে আমরা ও এই বিষয় নিয়ে ভাবছি, আমাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো বিবাহ রেজিস্ট্রি হয়না। আমাদেকে তাদের রেজিস্ট্রি বই দেখালেন তাতেও নেই বাল্যবিবাহের কোন পাতা। তারপর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমামের সাথে দেখা করে তাদের সাথেও কথা বলাহলো, তারাও জানিয়েছেন আমাদের আর এখন কেউ এই বাল্যবিবাহ জন্য ডাকে না।

কিছুতেই যেন হিসাব মিলাতে পারছিলামনা। বিয়েতে যাদের একান্তই প্রয়োজন তাদের ছাড়া কিভাবে বাল্যবিবাহ হচ্ছে? আবার নববধূ শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে স্বামীর সংসার করছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা যায় নববধূর কোল জোরে ফুটফুটে একটি সন্তান, আবার দেখা যায় কিছুদিন পরেই এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যান কাছে এসে বিচার সালিশ নিয়ে এসেছেন কিভাবে তারা পাবে বিচার নেই  কাবিন নেই বিবাহ ডকুমেন্ট।

আবার অনুসন্ধানে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি দিলেন আমাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা বলেন আসলে এখনকার বিয়েতে আর ইমাম কাজী লাগে না শুধু একটা সাদা কাগজ আর লেখার জন্য একটা কলম হলেই যথেষ্ট। তার মানে জানতে চাইলে তারা বলেন এখন রাতের আধারে সাদা কাগজে বেঁধে দিচ্ছেন বিবাহবন্ধন। কেউ গেলে তাকে বলে তারা নাকি বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে কিন্তু কিছু দিনের মাথায় দেখা যায় সেই মেয়ে চলে গেছে স্বামীর ঘরে।

তাদের কাছে আরও জানতে চাওয়া হলো, আসলে কি এই বিবাহ কোন দিনই রেজিস্ট্রি হয়না, জবাবে তারা বলেন বাজার থেকে কেনা কাবিনের পাতায় ( অনুসন্ধানে আছে এই কাবিনের পাতা ) আবার কিছু অসাধু কাজী আছে যারা টাকার বিনিময়ে এই বিবাহ রেজিস্ট্রি করে থাকেন তার নিজবাড়িতে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বেশকিছু এলাকায় হয়ে যাচ্ছে একের পর এক এ ধরনের বাল্যবিবাহ। এসব বিয়েতে এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিবর্গ নাকি জড়িত। কারা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাদের কাছে জানতে চাইলে আমাদেরকে জানিয়েছেন আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, কিন্তু তাদের নাম বলেনি।

তবে সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, এই চোরাগুপ্তা বিয়ে কি কোনদিনই ঠেকানো সম্ভব নয়?  এভাবে নষ্ট হইতে থাকবে একের পর এক কিশোরীর জীবন? তাই তারা মনে করেন উর্দ্ধতন মহল যদি এই বিষয়টিকে সু-নজরে এনে তাদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহলে হয়তো এই সাদা কাগজের বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব।

দ্বিতীয় পর্ব: অনুসন্ধানে জানাবো আমি, আপনাদের।