করোনা আতংকে থমকে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর।


মোঃ আশিকুর রহমান রনি: করোনা আতংকে থমকে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের(পূর্ব) নির্মান কাজ। এই ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে আসা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। করোনার কারণে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের আপত্তির কারণে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চীনা বিশেষজ্ঞরাও আসতে পারছেনা।

এছাড়া এই বিদ্যুৎ ইউনিটের আরো প্রায় ১৫ ভাগ যন্ত্রাংশও চীন থেকে শীপমেন্ট করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কমপক্ষে ৬ মাস পিছিয়ে পড়তে পারে এই প্রকল্পের নির্মান কাজ। তাছাড়া ৭০ জন চীনা বিশেষজ্ঞ দেশ থেকে আসতে না পারায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের(সাউথ) এর সংস্কার কাজ শুরু করাও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানাযায়, বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহা পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আশুগঞ্জকে এনার্জি সিটি ঘোষনা করেছে সরকার। সেই হিসাবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

এরই অংশ আশুগঞ্জ ৪‘শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরো একটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট(পূর্ব) নির্মান প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করার পর দরপত্র আহবান করা হয়। ২০১৮ সালে ২০ মার্চ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর অভারসিস ইকোনোমিক্স কো-অপারেশন কনস্ট্রাকশন এর সাথে ১৪৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে ২০১৮ সালের গত ১৬ জুলাই থেকে চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্যাস টারবাইন থেকে ২৮৪ মেগাওয়াট ২০২১ সালের জুন মাসে এই ইউনিটটি পুরোপুরি ৪‘শ মেগাওয়াট উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। কিন্ত গত ২০ মাসে এই প্রকল্পের মাত্র ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই প্র্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

বিদ্যুৎ কেন্দের একটি বিশ্বাস্থ সূত্রে জানাগেছে বর্তমানে ৭০জন চীনা বিশেষজ্ঞ তাদের দেশ থেকে কাজে ফিরে আসতে পারছে না আর বর্তমানে কর্মরত ২২৪ চীনা বিশেষজ্ঞও দেশে ফিরতে পারছে না। এই ২২৪জন চীনা বিশেষজ্ঞও পরিবার পরিজনের চিন্তায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।করোনা আতংকে স্বাভাবীক ভাবে কাজ করতে পারছে না।প্রতিদিন যেখানে তারা ১৭/১৮ ঘন্টা কাজ করতো সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ৬/৭ ঘন্টার বেশী কাজ করছে না।এছাড়া এই প্রকল্পের প্রায় ১৫ ভাগ যন্ত্রাংশও চীন থেকে শীপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে এই প্রকল্পের কাজ কমপক্ষে ৬ মাস পিছিয়ে পড়তে পারে।

এব্যাপারে আশুগঞ্জ ৪‘শ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট(পূর্ব) প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান বর্তমানে এই নতুন ইউনিটের কাজ প্রায় ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্ধসঢ়;্রমনের কারণে প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে।কিছু চীনা বিশেষজ্ঞ তাদের দেশ থেকে আসতে পারছে না। তাছাড়া প্রায় ১৫ ভাগ যন্ত্রাংশও শীপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইতোমধ্যে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩ মাস অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে।সতরাং এই প্রকল্পের নির্মান কাজ ৪ মাস পিছিয়ে পড়তে পারে এবং যথাসময়ে উৎপাদনে আসা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।এব্যাপারে সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এব্যাপারে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাজ্জাদুর রহমান জানান করোনা আতংকে এই প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে।

চীনা বিশেষজ্ঞরাও আসতে পারছে না তাছাড়া যন্ত্রাংশ আনা যাচ্ছে না।যারণে এই প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়তে পারে। বৈশি^ক এই সমস্যার কারণে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের(সাউথ) এর সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ২৭ মার্চ থেকে এর সংস্কার কাজ শুরু করার কথা ছিল।

উল্লেখ্য যে,এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরাতন ইউনিট জিটি-১.জিটি-২ ও এসটি ইউনিটটি অপসারন করে উল্লেখিত স্থানে নির্মানাধীন প্রকল্পটি এডিবি,ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক,আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে। গ্যাস ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ ইউনিটটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৫‘শ কোটি টাকা।

এই ইউনিটটি উৎপাদনে আসলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে।বর্তমানে দেশের বৃহৎ এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সচল ৮টি ইউনিটে ১৬‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।