করোনার প্রভাবে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দশমিনায় দিশেহারা কৃষক

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় করোনা ভাইরাসের প্রভাবে উপজেলার কৃষকের ইরি ক্ষেতে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অন্যদিকে পাকা ধান ঘরে তোলা ও বাজারে বিক্রি নিয়ে দুরচিন্তায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন। কিছু গ্রামের ক্ষেতে ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়ে আছে আর কিছু গ্রামের ক্ষেতে ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমনটি আশংকা করছেন দশমিনা উপজেলার কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ানে চলতি বছর ইরি ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ৫০হেক্টর বেশি। শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান বেশ ভাল হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা মনে করছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোগ বালাই না থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান পাকা ধরেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে কিছু কিছু এলাকার ধান কাটতে শুরু করবে।

কিন্তু সারাদেশে করোনা ভাইরাসের কারনে একের পর এক জেলাগুলো লকডাউন ঘোষনা করা হচ্ছে। অন্য দিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে জনসমাগম এরিয়ে সামাজিক জনদূরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে জনসাধারনকে। কৃষকরা বলছেন, উপজেলা জুরে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে শ্রমিক এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে আসবে কিভাবে করোনা ভাইরাসের মধ্যে। এনিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা সমালোচনা।

যদি শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে সময় মতো আসতে না পারেন তা হলে কিভাবে ধান ঘরে উঠবে এমন দুরচিন্তায় কৃষদের ঘুম নেই। এমন ভাবনা যেন দূর্বল করে ফেলছে কৃষকদেরকে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ানের গছানী গ্রামের মোঃ আবুল হোসেন আকন,মোঃ খলিল আকন ও মোঃ হাকিম মুন্সীসহ উপজেলার আরও অনেক কৃষকরা বলেন, আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে।

ফলে ধান পাকার সাথে সাথেই কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরতে হয়। কয়েক বছর ধরে এমনিতে ধানের আবাদে নানা কারনে লোকসান গুনতে হয়েছে। এই মৌসুমেও যদি শ্রমিক সংকট ও ধান বিক্রির দাম নিয়ে দুরচিন্তায় কৃষক। চলতি বছর ইরি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ক্ষেতে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান মুঠোফোনে জানান, ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে কৃষকদের চিন্তার কোন কারণ নেই আসা করছি সমস্যার সমাধান হবে। আর লকডাউনের মধ্যে ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে ও বাজারে বিক্রিতে একটুু সমস্য হতে পারে।