করোনাভাইরাস রোধে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের আগমন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাস্থ্য বিভাগের আপত্তি


আশকিুর রহমান রনি: করোনাভাইরাস রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। করোনা ভাইরাসে দেশে তিন জন আক্রান্ত হওয়ার খবরে বিশেষ সতকর্তায় চলছে আখাউড়ভ স্থল বন্দরের যাত্রী পারাপার। এছাড়াও আগামী ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য জার্মানি, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে ৭০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগমন নিয়ে আপত্তি তুলেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার আখাউড়া বন্দরের ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টে গিয়ে দেখা যায়, আগের চেয়ে অধিকতর যাচাই বাছাই করে যাত্রীদের পারাপারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীকে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্ক না পড়ায় সোমবার সকালে কিছু সময়ের জন্য যাত্রী
নেয়া বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর বাংলাদেশও যাত্রী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। পরে মাস্ক পড়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়। তবে ভাইরাস পরীক্ষায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির স্থাপনের দাবি যাত্রীদের। যাত্রীরা বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে চারদিকে মানুষের মাঝে একটা আতংক বিরাজ করছে। আতংক থাকলেও প্রয়োজনের কারনে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। বন্দরে ভাইরাস সনাক্তে কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই।

তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। আখাউড়া ইমিগ্রেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশী যাত্রীদেরকে মাকস ছাড়া তাদের দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। অন্য দিনের তুলনায় যাত্রীরা অনেক সচেতন। এদিকে, আগামী ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য ৭০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আসার কথা রয়েছে। সেই বিদেশী বিশেষজ্ঞ দলকে না আনার পরামর্শ দিয়ে চিঠি দিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস। এছাড়া কারোনাভাইরাস আতঙ্কে জেলার কসবা সীমান্ত হাট দুই মাস বন্ধ রাখার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে করোনাভাইরাস সচেতনা বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ প্রস্তাবনা আনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ শাহ আলম জানান, বিদেশি প্রতিনিধি দলের আগমনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেওয়া একটি চিঠির অনুলিপি সিভিল সার্জন অফিসকে দিয়ে অবহিত করা হয়।

জেলা প্রশাসনের সাথে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত শেষে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সোমবার বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে ডাক যোগে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হবে।