একজন করোনাযোদ্ধা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: করোনার মহা দুর্যোগকালে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতের দিক নির্দেশনায় অসহায় ও দুস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সদস্যরা। হতদরিদ্র মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে দাফনের দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। মানুষকে ঘরে রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আর মানবিক এই কর্মকাণ্ডের সঠিক নির্দেশনাসহ মাঠে থেকে কাজ করছেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। গত শুক্রবার কুষ্টিয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক বার্তায় প্রতিবেদককে জানান, সব ভয় অতিক্রম করে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রয়োজনে ঝুঁকিও নিচ্ছেন। করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের দাফনের দায়িত্বও পড়েছে পুলিশের কাঁধে। শুধু তাই নয়, এ অচলাবস্থায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি রুটিন মাফিক কাজও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

দু’ভাগে ভাগ হয়ে মাঠে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এক গ্রুপের ১৫ দিন ডিউটি শেষ হলে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। তখন অপর গ্রুপ মাঠে থাকছে। ব্যারাকে পৃথকভাবে তাদের থাকার ও ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনার থাবা থেকে রক্ষায় জেলার প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে বাইরের জেলার মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের ২৩টি টহল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে।

গঠন করা হয়েছে ৮টি কুইক রেসপন্স টিম। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বাজার শপিংমল, ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাহারা বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, কাজ হারিয়ে যারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

এ পর্যন্ত পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে কুষ্টিয়ার সাত থানা এলাকার ৮ হাজার ৪শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুই মাস ধরে প্রতিদিন দুই শতাধিক গরিবের মাঝে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সদস্যদের রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলার অসহায় আলেম উলামা ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গর্ভবতীদের নিজেদের গাড়ি করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সুরক্ষায় পুলিশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৪শ’ পিপিই, ৩ হাজার মাস্ক, ১ হাজার হ্যান্ড গ্লাভস, ৫০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ১শ’ পিস ফেস শিল্ড সিভিল সার্জনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এটাও বলেন, জেলার কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান কাটতে ও মাড়াই করতে পারে সে বিষয়ে মাঠে গিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে পুলিশ। কৃষি শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজে যেতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলায় ধান কাটার শ্রমিকের প্রয়োজন ছিল ৩৯ হাজার ৯৩০ জন। চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার ৯৭০ কৃষি শ্রমিক বেশি থাকায় তাদেরকে অন্য জেলায় ধান কাটতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া কৃষিপণ্য, সার, বীজ, খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি, ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য পরিবহনে সহায়তা প্রদান করছে পুলিশ। জেলার সব হাট বন্ধ করে কাঁচা বাজার খোলা স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, পেশাগত দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমরা এই কাজ করছি। নানা কারণে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এই ধারণা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।