উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রিনে শ্রমিকদের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ

রেজা মাহমুদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এভারগ্রিন কোম্পানিতে বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে শ্রমিকরা। আজ শনিবার সকালে শুরু হয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলমান ওই বিক্ষোভে কোম্পানির ৫ টি কাভার্ডভ্যান, বেশ কয়েকটি মটর সাইকেল, অফিসের কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পরে প্রশাসনের হক্ষক্ষেপে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফিরে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উত্তরা ইপিজেডের জিএম এনামুল হক। ইপিজেড শ্রমিক সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালে করা বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন থেকে পরচুলা তৈরির ওই কোম্পানি যখন খুশি তখন শ্রমিক ছাঁটাই করে আসছে। বিশ্ব মহামারী করোনা কালীন এর মাত্রা আরো বেড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন যারা কর্মরত রয়েছেন বেতন বেশি হওয়ায় তাদেরকে ছাটাই করে কম মজুরিতে নতুন লোক নিয়োগের অভিযোগ ওও করা হয়।

তাই দীর্ঘদিনের ওইসব অনিয়মের কারনে সৃস্ট হওয়া অসন্তোষে ঘটনার দিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করতে থাকে। পরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উলে­খসংখ্যক ক্ষতিসাধন করা হয়। ইপিজেড,সৈয়দপুর ও নীলফামারীর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হন। পরে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই কোম্পানির মালিক মি: পিলিক্স দাবি দাওয়া মেনে নেয়ায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শান্ত হন এবং কাজে ফিরে যায়।

এ ব্যাপারে উত্তরা ইপিজেডের জিএম এনামুল হক বলেন,এর আগেও শ্রমিকদের করা লিখিত ও মোখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কোম্পানির মালিকের সাথে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, খবর পেয়েই দ্রæত ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। আইন লঙ্ঘন হয় এমন কোন কর্মকান্ড গ্রহন করা থেকে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।